লেটেস্ট নিউজ

রণক্ষেত্র থেকে ১৬৯ ভারতীয়কে ফেরাতে প্রাণের ঝুঁকি নিলেন নির্ভীক পাইলট দীপিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আরব দুনিয়ার রণক্ষেত্রের বুক চিরে ১৬৯ জন ভারতীয়কে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনলেন ফরিদাবাদের ২৩ বছর বয়সি তরুণী পাইলট দীপিকা অধানা। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এই উদ্ধার অভিযানে দীপিকার অদম্য সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠা নজর কেড়েছে দেশবাসীর। বিমানে ওড়ার আগে নিজের মাকে ফোন করে দীপিকা বলেছিলেন, “ফিরতে পারব কি না জানি না।” মেয়ের সেই আশঙ্কার কথা শুনে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা আতঙ্কে কাটিয়েছিল তাঁর পরিবার। অবশেষে দিল্লির মাটি ছুঁয়ে দীপিকা প্রমাণ করলেন, দেশসেবার কাছে মৃত্যুভয়ও তুচ্ছ।

গত ৬ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খেইমা থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করার জরুরি নির্দেশ পান দীপিকা। মূলত অন্য এক সহকর্মীর এই বিমানটি চালানোর কথা থাকলেও উড়ানের মাত্র দু’ঘণ্টা আগে দায়িত্ব বর্তায় তাঁর ওপর। ক্যাপ্টেন জসবিন্দর কৌর, কো-পাইলট দীপিকা এবং আরও চারজন নারী ক্রু সদস্যকে নিয়ে গঠিত এই বিশেষ দল যুদ্ধ পরিস্থিতির পরোয়া না করেই মিশনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীপিকা জানান, যুদ্ধের আবহে মনে সামান্য ভয় থাকলেও কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তার আশ্বাসে তাঁরা অবিচল ছিলেন।

অভিযানের সময় এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মাঝ আকাশে থাকাকালীন কিছু সময়ের জন্য এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিমানটির। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে নির্দিষ্ট সময়েই ১৬৯ জন যাত্রীকে নিয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁরা। নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে যাত্রীরাও এই নারী ক্রু দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ফরিদাবাদের এক সাধারণ ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান দীপিকার এই সাফল্যের পথ খুব একটা সহজ ছিল না। তাঁর প্রয়াত দাদা অমৃত সিং অধানার স্বপ্ন ছিল বোনকে পাইলট হিসেবে দেখার। পরিবারের পূর্ণ সমর্থনে ২০২০ সালে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর থেকেই বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্সের প্রস্তুতি শুরু করেন দীপিকা। মধ্যপ্রদেশের রেওয়া থেকে প্রশিক্ষণ শেষে গ্রিস ও ইস্তানবুল থেকে এয়ারবাস এ৩২০ চালানোর বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন তিনি। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে আজ তিনি দেশের গর্বে পরিণত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *