রাজপ্রাসাদও এখন ইডির দখলে, সহায়-সম্বল হারিয়ে কি এবার শ্রীঘরে ঠাঁই হচ্ছে অনিল আম্বানির – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
এক সময়ের এশিয়াকুলতিলক মুকেশ আম্বানির অনুজ অনিল আম্বানির সাম্রাজ্যে এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপের হাহাকার। কয়েক দশক আগে যে নাম শুনলে ভারতের কর্পোরেট জগৎ কেঁপে উঠত, সেই ৬৬ বছর বয়সি শিল্পপতির সময় এখন এতটাই খারাপ যে খোদ নিজের মাথার ওপরের ছাদটুকুও কেড়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি এবং বিপুল অঙ্কের অর্থপাচার মামলায় বিদ্ধ রিলায়েন্স এডিএজি গ্রুপের কর্ণধার বৃহস্পতিবার দিল্লির ইডি দফতরে হাজিরা দিলেন। তবে এবারের হাজিরা যেন অন্য সব বারের চেয়ে আলাদা, কারণ এর ঠিক আগেই তাঁর মুম্বইয়ের পালি হিলের ১৭ তলার সেই বিখ্যাত বিলাসবহুল প্রাসাদ ‘অ্যাবোর্ড’ সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
৪০ হাজার কোটির ঋণের ফাঁসে দিশেহারা অনিল
রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস বা ‘আরকম’-এর মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিলেন অনিল আম্বানি। বর্তমানে সেই বকেয়া ঋণের পাহাড় দাঁড়িয়েছে আকাশছোঁয়া ৪০,১৮৫ কোটি টাকায়। ইডির অভিযোগ, ব্যাংকের এই বিপুল অর্থ নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে সুপরিকল্পিতভাবে নয়-ছয় করা হয়েছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে গত নভেম্বর মাসেই মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে এলাকায় তাঁর স্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ সিল করে দিয়েছিল ইডি। আর এবার সরাসরি তাঁর রাজকীয় বাসভবনে থাবা বসাল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সব মিলিয়ে অনিল আম্বানির প্রায় ১৫,৭০০ কোটি টাকার সম্পত্তি এখন সরকারি কবজায়।
Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশে সাঁড়াশি চাপ
গত বছর আগস্ট মাসেও একবার ইডি দফতরে বয়ান নথিভুক্ত করতে হয়েছিল অনিলকে। কিন্তু সম্প্রতি Supreme \titleonly কোর্টের কড়া নির্দেশে অনিল ধীরুভাই আম্বানি গ্রুপের (ADAG) বিরুদ্ধে তদন্তের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইডি। গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিআইটি’। বিশেষজ্ঞদের মতে, পালি হিলের প্রাসাদ বাজেয়াপ্ত করার পর অনিলকে তলব করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পিএমএলএ (PMLA) বা আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনোভাবেই এই সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারেন।
মধ্যগগন থেকে অতল তলে পতনের কাহিনী
বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা কিংবা টেলিকম— গত দুই দশকে ভারতের প্রতিটি লাভজনক ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল অনিল আম্বানির। কিন্তু একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত এবং ঋণের জালে জড়িয়ে আজ তাঁর ভাগ্য অস্তমিত। যে মানুষটির একদিন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিকানা ছিল, আজ তাঁরই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দিল্লির ইডি দফতরে তাঁর এই বিমর্ষ হাজিরা এবং মুম্বইয়ের বিলাসবহুল অট্টালিকা হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা রিলায়েন্স গ্রুপের অন্দরে যে বড়সড় কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন প্রশ্ন উঠছে, সম্পত্তি হারানোর পর কি তবে হাজতবাসই ভবিতব্য অনিল আম্বানির?

