রান্নাঘরে সিঙ্ক আর গ্যাস ওভেন কি পাশাপাশি? আজই সরান না হলে ঘনিয়ে আসতে পারে চরম বিপদ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রান্নাঘর কেবল অন্নপূর্ণার বাসভূমি নয়, এটি পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি এবং ইতিবাচক শক্তির প্রধান কেন্দ্র। বাস্তুশাস্ত্রে রান্নাঘরের প্রতিটি জিনিসের সঠিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ভুলে সেখানে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য, অর্থভাগ্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর।
আগুন ও জলের সংঘাত এড়িয়ে চলুন
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরের সবচেয়ে বড় ভুল হলো আগুনের উৎস এবং জলের উৎসকে পাশাপাশি রাখা। গ্যাসের ওভেন আগুনের প্রতীক এবং জলের সিঙ্ক বা পানীয় জলের পাত্র হলো জলের প্রতীক। এই দুই বিপরীত ধর্মী উপাদান কাছাকাছি থাকলে সংসারে অশান্তি ও কলহ বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘন ঘন অসুস্থতা এবং আর্থিক অনটন দেখা দিতে পারে।
বাস্তু ত্রুটি সংশোধনের উপায়
- সঠিক দিক নির্বাচন: বাস্তু অনুসারে গ্যাসের চুলা বা ওভেন সবসময় দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখা শুভ। অন্যদিকে, জলের সিঙ্ক হওয়া উচিত উত্তর-পূর্ব দিকে।
- পার্টিশন ব্যবহার: যদি জায়গার অভাবে গ্যাস ও সিঙ্ক পাশাপাশি রাখতে হয়, তবে দুটির মাঝখানে একটি কাঠের বোর্ড বা পার্টিশন ব্যবহার করুন। এটি দুই বিরুদ্ধ শক্তির সরাসরি সংঘাত রুখতে সাহায্য করবে।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: নোংরা বাসন দীর্ঘক্ষণ সিঙ্কে ফেলে রাখবেন না। কাজ শেষ হলে সিঙ্ক ধুয়ে মুছে শুকনো রাখুন।
- গাছের ছোঁয়া: রান্নাঘরে একটি ছোট সবুজ গাছ বা ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। এটি নেতিবাচক শক্তি শুষে নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।
- ডাস্টবিন: রান্নাঘরের ভেতর ডাস্টবিন না রাখাই ভালো। একান্তই রাখতে হলে সেটি সবসময় ঢেকে রাখুন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার করুন।
ছোট অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটের সীমিত পরিসরেও এই সামান্য পরিবর্তনগুলো আপনার সংসারে ফিরিয়ে আনতে পারে হারানো শান্তি ও সমৃদ্ধি। বাস্তুর এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে এবং গৃহস্থে মা অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ বজায় থাকে।

