রাম মন্দিরে অনুদান চুরি! তদন্তে বড়সড় জট, গ্রেফতার ৮ অভিযুক্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অযোধ্যা: রাম মন্দিরকে ঘিরে বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় উত্তরপ্রদেশ। ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ৮ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযুক্তদের জেরা করে এই ষড়যন্ত্রের শিকড় সন্ধানে নেমেছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)।
কীভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতি?
‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু হয়। মন্দির ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর রাজ্য সরকার ১৩ জুন একটি এসআইটি গঠন করেছিল। সেই তদন্তকারী দলের রিপোর্টের সুপারিশ মেনেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম— অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লভকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব (টিন্নু)। এদের বাইরেও আরও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে তিনি আক্রমণ শানিয়ে লেখেন, “বিজেপি সরকারের আমলে ছোট মাছেরাই শাস্তি পাবে, অথচ বড় রাঘব বোয়ালরা পার পেয়ে যাবে!” অখিলেশের দাবি, তদন্তের আগেই প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে এবং এসআইটির রিপোর্ট আগে থেকেই সাজানো ছিল।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) প্রধান অলোক কুমার অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।
রাম মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে ভক্তদের অনুদান চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার, পুলিশের জেরায় আর কত বড় বড় নাম বেরিয়ে আসে।
