রাম মন্দিরে অনুদান দুর্নীতির পর্দাফাঁস, ৮ গ্রেপ্তারের পর ইস্তফা চম্পত রাইয়ের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসার পরই বড়সড় রদবদল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টে। এই ঘটনায় ট্রাস্ট ঘনিষ্ঠ ৮ জনকে গ্রেপ্তারের পরপরই শীর্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্র। শুক্রবার তাঁদের এই জোড়া ইস্তফায় মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
নেপথ্যের কারণ ও বিপুল দুর্নীতির হদিশ
বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) জমা দেওয়া রিপোর্টে এই নজিরবিহীন দুর্নীতির কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দিরে নগদ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি প্রণামী এবং অগণিত সোনা-রুপোর গয়না জমা পড়লেও তার একটি বড় অংশের কোনও হদিশ নেই। এমনকি দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও খোয়া গিয়েছে। তদন্তে জানা যায়, অনুদান গোনা এবং মন্দির পরিচালনার গোটা ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একাংশের সরাসরি প্রভাব ছিল এবং খোদ চম্পত রাই নিজেও কাঠগড়ায় ছিলেন। কামেশ্বর চৌপালের মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাস্টে যোগ দেওয়া সদস্য কৃষ্ণ মোহনের দায়ের করা প্রথম এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়।
গ্রেপ্তারি ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রভাব
তদন্তে নেমে পুলিশ মন্দিরের দানবাক্সের চাবিরক্ষক তথা চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক টিন্নু-সহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অনুদান গোনার দায়িত্বে থাকা রমাশংকর মিশ্র, তাঁর ছেলে অনুকল্প এবং চুরি যাওয়া টাকার ভাগবাঁটোয়ারায় অভিযুক্ত জামাই লবকুশ মিশ্র পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। লবকুশের বাড়ি থেকে বিপুল টাকাও উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও জাল রসিদ তৈরি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের দায়ে অবিনাশ শুক্লা, মণীশ যাদব, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং করুণেশ পাণ্ডেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সনাতন মূল্যবোধ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে রেয়াত করা হবে না। সিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকারের এই কড়া আইনি পদক্ষেপ আগামী দিনে মন্দির পরিচালনার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন, কড়া অডিট ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
