রাস্তাই দেখাবে নতুন পথ, ধরনা বদলে মঙ্গলবার কলকাতায় মমতার মেগা পদযাত্রা – এবেলা

রাস্তাই দেখাবে নতুন পথ, ধরনা বদলে মঙ্গলবার কলকাতায় মমতার মেগা পদযাত্রা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজপথে নামছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পূর্বঘোষিত ধরনা বা অবস্থান বিক্ষোভের পথ থেকে সরে এসে তিনি বেছে নিয়েছেন পদযাত্রার কৌশল। আগামী মঙ্গলবার, ২ জুন কলকাতার রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে এই মেগা মিছিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘রাস্তাই রাস্তা দেখাবে’—এই চিরন্তন নীতিতে বিশ্বাসী পোড়খাওয়া এই রাজনীতিকের আকস্মিক কর্মসূচি বদল রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্মসূচি বদল ও নেপথ্যের কারণ

প্রাথমিকভাবে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা, ভোটে কারচুপি, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির মতো একাধিক অভিযোগে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে ধরনায় বসার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধরনার চেয়ে জনসংযোগ এবং আন্দোলনের জন্য পদযাত্রাকেই বেশি কার্যকর মনে করছেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশি অনুমতির জটিলতাকেও তিনি ভিন্নভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ অনুমতি না দিলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন না, বরং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাবেন।

ক্ষুণ্ণ মনোবল চাঙ্গা করার মরিয়া চেষ্টা

নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ, সমালোচনা এবং পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে, যা কার্যত দলকে এক চরম সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এর ওপর যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক গণরোষের ঘটনা। গত শনি ও রবিবার যথাক্রমে সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চণ্ডীপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ সারির দুই সাংসদ জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রহৃত হয়েছেন। এই জোড়া ঘটনায় দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কালীঘাটের বাসভবনে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে জয়ী প্রার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার পর, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই রাস্তায় নেমে কর্মীদের ভয় কাটাতে এবং মনোবল চাঙ্গা করতে চাইছেন।

দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই এখন তৃণমূলনেত্রীর মূল লক্ষ্য। এই পদযাত্রার মাধ্যমে একদিকে যেমন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধী শিবিরে থাকা দলটিকে পুনরায় সংগঠিত করার প্রক্রিয়া গতি পাবে। মঙ্গলবারের এই পদযাত্রা ছাব্বিশ-পরবর্তী রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *