রেকর্ড ভেঙে চুরমার, বাংলায় স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ ভোটদান, কার পুড়ল ভাগ্য ও কার পৌষমাস! – এবেলা

রেকর্ড ভেঙে চুরমার, বাংলায় স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ ভোটদান, কার পুড়ল ভাগ্য ও কার পৌষমাস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে সৃষ্টি হলো এক অবিস্মরণীয় নজির। স্বাধীনতার পর থেকে এযাবৎকাল পর্যন্ত হওয়া সমস্ত নির্বাচনের রেকর্ড ধূলিসাৎ করে দিয়ে চলতি বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে এই বিপুল জনজোয়ার দেখে কার্যত স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল ও নির্বাচন কমিশন। বিশেষত ১০টি নির্দিষ্ট আসনে ভোটের হার ৯৬ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা রাজ্যের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।

ভোটের সুনামিতে নেপথ্যের কারণসমূহ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক ভোটদানের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে মানুষের মধ্যে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে এক অভাবনীয় সচেতনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তালিকায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই বুথমুখী হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, স্বচ্ছ ভোটার তালিকার মাধ্যমে জাল ভোট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হওয়ায় প্রকৃত ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃতীয়ত, শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও এই বিপুল জনজোয়ারের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানের নিরিখে উত্তপ্ত জেলাগুলি

এবারের নির্বাচনে জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে শীর্ষস্থান দখল করেছে কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুর, যেখানে ভোট পড়েছে ৯৫ শতাংশের বেশি। এছাড়া ভগবানগোলা ও রঘুনাথগঞ্জের মতো হটস্পটগুলোতে ভোটের হার প্রায় ৯৭ শতাংশ ছুঁইছুঁই। বীরভূম, জলপাইগুড়ি এবং মালদা-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলেও ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি জঙ্গলমহল এলাকাতেও ৯২ শতাংশ ভোট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রান্তিক মানুষেরাও এবারের নির্বাচনে নিজেদের রায় দিতে বিপুল উৎসাহ দেখিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ফলাফল

২০১১ বা ২০২১ সালের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতেও ভোটদানের হার ছিল যথাক্রমে ৮৪.৭২ ও ৮২.৩০ শতাংশ। সেই তুলনায় এবার প্রায় ১০ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের হার আকাশছোঁয়া হওয়া অনেক সময় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা ৪ জুন ফলাফল প্রকাশের দিন স্পষ্ট হবে। এই ‘ভোটের সুনামি’ শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য নিশ্চিত করল আর কার বিদায় ঘণ্টা বাজাল, তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা রাজ্যজুড়ে।

এক ঝলকে

  • স্বাধীনতার পর বাংলায় সর্বোচ্চ ৯২.৩৫ শতাংশ রেকর্ড ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে।
  • কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু আসনে ভোটের হার ৯৫-৯৭ শতাংশ।
  • ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাগরিকত্বের ইস্যু ভোটারদের বুথমুখী করতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
  • ২০১১ ও ২০২১ সালের নজিরবিহীন ভোটের হারকেও এবার অনায়াসেই ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *