রেললাইনের ধারে ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য – এবেলা

রেললাইনের ধারে ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নদিয়ার চাকদহ থানার সুকান্ত পল্লি এলাকায় রেললাইনের ধার থেকে এক ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম প্রমথ মণ্ডল (৪২)। তিনি চাকদহ ডাউন স্টেশন এলাকায় মরসুমি বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন। শনিবার সকালে রেললাইনের ধারে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তবে ঘটনাস্থলের অদূরে রাস্তায় তাঁর স্কুটিটি পড়ে থাকায় এই মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আর্থিক অনটন ও মানসিক অবসাদ

প্রাথমিক তদন্ত ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত প্রমথ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার এক ব্যক্তির কাছে তিনি প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা পেতেন। দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও সেই টাকা উদ্ধার করতে পারছিলেন না তিনি। অন্য দিকে, এই বকেয়া টাকা না পাওয়ায় নিজের মহাজনকেও পাওনা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন প্রমথবাবু। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তৈরি হওয়া ধারাবাহিক মানসিক চাপই এই ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মৃত্যুর কারণ ঘিরে জোরালো রহস্য

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চলন্ত ট্রেনের ধাক্কাতেই প্রমথবাবুর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রমথবাবুর স্কুটিটি রেললাইন থেকে বেশ কিছুটা দূরে মূল রাস্তার ওপর অক্ষত অবস্থায় পড়েছিল। যদি এটি সাধারণ ট্রেন দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তবে স্কুটিটি কেন এবং কীভাবে মাঝরাস্তায় ফেলে রেখে তিনি রেললাইনে গেলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক বিষয় বা শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড লুকিয়ে রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রানাঘাট জিআরপি থানা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *