রোগীর বমি পরিষ্কার করতে স্বজনদের হাতে ঝাড়ু, কাটনিতে মুখ থুবড়ে পড়ল মানবিকতা! – এবেলা

রোগীর বমি পরিষ্কার করতে স্বজনদের হাতে ঝাড়ু, কাটনিতে মুখ থুবড়ে পড়ল মানবিকতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রদেশের কাটনি জেলা হাসপাতালে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক চরম অমানবিক চিত্র ফুটে উঠেছে। ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সে আসা এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় যানের ভেতরেই বমি হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, অ্যাম্বুলেন্সের কর্মী বা সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেই নোংরা পরিষ্কার না করে উল্টো রোগীর নারী স্বজনদের হাতেই ঝাড়ু ও মোছা তুলে দেন। নিরুপায় স্বজনরা অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েই অ্যাম্বুলেন্সের মেঝে পরিষ্কার করেন।

ভাইরাল ভিডিও ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

অমানবিক এই ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সের রক্ষকরা সহায়হীন পরিবারের অসহায়ত্ব নিয়ে এক প্রকার তামাশা করছেন এবং নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক পরিচ্ছন্নতার কাজ করাচ্ছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। কাটনি জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডঃ যশবন্ত ভার্মা জানিয়েছেন, যদিও কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, তবে ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ব্যবস্থার ক্রুরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অবহেলা নয়, বরং সরকারি পরিষেবার নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যখন সরকারি বিজ্ঞাপনে নারী নিরাপত্তা ও সম্মানের বড় বড় দাবি করা হয়, তখন মাঠ পর্যায়ে এমন সংবেদনহীনতা সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে। এই ঘটনার ফলে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের চাকরিচ্যুতি বা বিভাগীয় শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে হাসপাতালের জরুরি পরিষেবায় এমন অপেশাদার আচরণ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা জোরালো হয়েছে।

এক ঝলকে

  • মধ্যপ্রদেশের কাটনিতে অ্যাম্বুলেন্সে বমি করায় রোগীর নারী স্বজনদের দিয়ে জোরপূর্বক মেঝে পরিষ্কার করানো হয়েছে।
  • অমানবিক এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়।
  • জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছেন।
  • সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার নৈতিকতা ও নারীর সম্মান রক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *