রোড সেফটিতে কড়া সুপ্রিম কোর্ট! এবার সব গণপরিবহনে ট্র্যাকিং ডিভাইস ও প্যানিক বাটন বাধ্যতামূলক – এবেলা

রোড সেফটিতে কড়া সুপ্রিম কোর্ট! এবার সব গণপরিবহনে ট্র্যাকিং ডিভাইস ও প্যানিক বাটন বাধ্যতামূলক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনার ক্রমবর্ধমান হার এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সড়কে লেন মেনে চলার বালাই নেই এবং সরকারি বিধিনিষেধ কেবল কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রতিটি গণপরিবহনে ভেহিক্যাল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস (VLTD) এবং প্যানিক বোতাম থাকা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফিটনেস ও পারমিটে কঠোর বিধিনিষেধ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, মোটরযান আইনের অধীনে কোনো যানবাহনকে ফিটনেস সার্টিফিকেট বা চলাচলের অনুমতি (পারমিট) দিতে হলে তাতে অবশ্যই কার্যকরী ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকতে হবে। এই ডিভাইসটি সচল আছে কি না, তা সরকারি ‘বাহন’ (Vahan) পোর্টালে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। শুধু নতুন গাড়ি নয়, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে নিবন্ধিত পুরনো গণপরিবহনগুলোতেও দ্রুত এই প্রযুক্তি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, রাজ্যগুলোর ওপর দায় না চাপিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো গাড়ি তৈরির সময়ই এই সুরক্ষা সরঞ্জামগুলো যুক্ত করে।

গতিরোধক যন্ত্র ও জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা বোর্ড

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ২.১৮ কোটি বাণিজ্যিক যানবাহনের মধ্যে মাত্র ১০.৭ লক্ষ যানবাহনে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র বা স্পিড গভর্নর লাগানো আছে। এই তথ্যে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত জানিয়েছে, যেসব যানবাহনে গতিরোধক যন্ত্র নেই, তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রত্যাখ্যান করতে হবে। পাশাপাশি, গত ছয় বছর ধরে ‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা বোর্ড’ অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বোর্ডে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করে একে কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *