লক্ষাধিক ফলোয়ার ও লাখ টাকার আয়, বাস্তবে অস্তিত্বহীন এআই সুন্দরীর মায়াজালে নেটদুনিয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে স্ক্রোল করলেই এখন চোখে পড়ে অজস্র ইনফ্লুয়েন্সরদের রকমারি কনটেন্ট। কেউ রূপচর্চার পরামর্শ দিচ্ছেন, কেউ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভাগ করছেন, আবার কেউ মেতে আছেন রান্নার টোটকা নিয়ে। এই বিশাল ভিড়ের মধ্যেই নেটজনতার মন কেড়েছেন ‘ব্রুতিকা প্যাটেল’ নামের এক লাবণ্যময়ী তরুণী। কখনও সমুদ্র সৈকতে ছুটির মেজাজে, আবার কখনও ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে তাঁর ছবি মুগ্ধ করছে নেটিজেনদের। ইন্সটাগ্রামে ইতিমধ্যেই তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা লক্ষাধিক। ফলোয়ারদের মন্তব্যের নিয়মিত উত্তরও দেন তিনি। কিন্তু চোখ ধাঁধানো এই রূপ ও জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত সত্যি, বাস্তবে এই সুন্দরীর কোনও অস্তিত্বই নেই।
ব্রুতিকা প্যাটেল নামের এই চরিত্রটি আসলে সম্পূর্ণরূপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দ্বারা তৈরি। খালি চোখে তাঁর প্রোফাইল দেখে বোঝার কোনও উপায় নেই যে তিনি একজন রক্তমাংসের মানুষ নন। একজন প্রতিষ্ঠিত ইনফ্লুয়েন্সরের মতোই নিয়মিত ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারের কাজও করছেন অনায়াসে। আর এই ব্র্যান্ড প্রমোশন থেকেই প্রতি মাসে তাঁর আয় হচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। তবে এই উপার্জিত অর্থ স্বাভাবিকভাবেই যাচ্ছে এই ভার্চুয়াল চরিত্রটির নেপথ্যে থাকা আসল নির্মাতাদের পকেটে।
ভার্চুয়াল দুনিয়ার নতুন ট্রেন্ড ও নেপথ্যের সত্য
প্রযুক্তির এই খেলা সোশাল মিডিয়ায় একেবারেই নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকেই এমন বহু এআই ইনফ্লুয়েন্সর নেটদুনিয়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, যাদের অনেককেই সাধারণ মানুষ এখনও আসল বলেই মনে করেন। এর ফলে সোশাল মিডিয়ায় তৈরি হচ্ছে এক বড় ধরনের বিভ্রান্তি। পর্দায় যাকে দেখে নেটিজেনরা মুগ্ধ হচ্ছেন, বাস্তবে হয়তো তাঁর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার কোনও মানুষের হাতে। শুধু নতুন চরিত্র তৈরিই নয়, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এখন পরিচিত তারকাদের চেহারা হুবহু নকল করে তৈরি হচ্ছে ছবি ও ভিডিও, যা দেখে আসল-নকল চেনা প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
আপাতদৃষ্টিতে এই প্রযুক্তিকে চমকপ্রদ বা বিনোদনমূলক মনে হলেও এর পেছনে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখছেন গবেষকরা। এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে আগামী দিনে আসল ও নকলের মধ্যকার পার্থক্য মুছে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বর্তমানে তাও কিছু খুঁত দেখে এআই তৈরি ছবি বা ভিডিও চেনা সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও নিখুঁত হয়ে উঠবে। ফলস্বরূপ, সোশাল মিডিয়ায় আসল মানুষের চেয়ে কৃত্রিম ও ভুয়ো চরিত্রের আধিপত্য অনেক বেড়ে যেতে পারে, যা সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে।
