লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরাই পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, আবেদনের প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরাই পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, আবেদনের প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই মহিলাদের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সমস্ত সংশয় দূর করে নয়া বিজেপি সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিদায়ী সরকারের কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরা সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন। সোমবার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছিলেন, সেই সুরেই এদিন প্রকল্পের রূপরেখা স্পষ্ট করলেন অগ্নিমিত্রা পাল।

আবেদন প্রক্রিয়ায় আমূল বদল

আগের সরকার মূলত ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করলেও, বর্তমান সরকার সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চলেছে। অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে অনলাইন বা পোর্টাল-নির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে অনায়াসেই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, তার জন্য পোর্টালটিকে অত্যন্ত সহজবোধ্য করা হবে। এমনকি খুব বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন মহিলারাও যাতে সহজে পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে পারেন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমস্ত টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি বা ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ মোডে পাঠানো হবে।

পাবেন না অনুপ্রবেশকারীরা, নাম কাটা নিয়ে কড়া বার্তা

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের উপভোক্তা তালিকায় কারা থাকবেন, তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেলেও প্রতিটি নামের বিশ্লেষণ করা হবে। যদি তদন্তে দেখা যায় কোনো উপভোক্তা মারা গেছেন কিংবা তিনি আদতে ভারত বা এ রাজ্যের নাগরিক নন—বরং রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী, তবে তাদের নাম তৎক্ষণাৎ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে এবং যাঁরা বর্তমানে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের নাম এখনই কাটা যাবে না এবং যথাযথ যাচাইয়ের পর তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মূলত স্বচ্ছতা ফেরানো এবং যোগ্য উপভোক্তার হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়াই এই সরকারের লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *