লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রাহকরাই এবার পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, মন্ত্রিসভায় ঐতিহাসিক অনুমোদন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার নারীদের সামাজিক সুরক্ষায় এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নবগঠিত সরকার। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি পূরণ করে রাজ্য মন্ত্রিসভা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগী নারীরা এখন থেকে এই নতুন প্রকল্পের আওতায় চলে আসবেন, যার ফলে মহিলাদের মাসিক সামাজিক ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হতে চলেছে। আগামী জুন মাস থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের এই স্বপ্নের প্রকল্প প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট করেন, যে সমস্ত যোগ্য নারী এত দিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অটোমেটিকভাবে এই নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। ফলে সাধারণ মানুষকে কোনো বাড়তি ঝক্কি পোহাতে হবে না এবং প্রাপ্য ভাতার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পাশাপাশি, যাঁরা এখনো এই সুবিধার আওতায় আসেননি, তাঁদের জন্য দ্রুত একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টাল চালু করে নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
যোগ্যতার কঠোর শর্ত ও প্রয়োজনীয় নথি
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে উপভোক্তাদের একগুচ্ছ নিয়ম ও প্রায় ১০টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এই প্রকল্পের জন্য আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাঁকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারিবারিক বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, আবেদনকারীর নামে কোনো পাকা বাড়ি, চারচাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর থাকলে তিনি এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
আবেদন প্রক্রিয়ার কারিগরি দিকটি মজবুত করতে নবান্ন বেশ কিছু নথিপত্র বাধ্যতামূলক করেছে। আবেদনকারীর বৈধ রেশন কার্ড থাকার পাশাপাশি নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত না থাকলে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। আবেদনের সময় রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রতিলিপি, আয়ের শংসাপত্র এবং বসবাসের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
প্রভাব ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের লাখ লাখ নারী সরাসরি আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের অপব্যবহার রুখতে এবং প্রকৃত দুঃস্থদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার অত্যন্ত সতর্ক। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন আবেদন জমা পড়ার পর প্রতিটি তথ্য নিবিড়ভাবে স্ক্রুটিনি বা যাচাই করা হবে। সমস্ত শর্ত ও নথি সম্পূর্ণ ঠিক থাকলে তবেই প্রশাসনের তরফ থেকে সবুজ সংকেত মিলবে।
