‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড!’ অভিষেকের ঘরের সামনে গাড়ি ধাক্কার ঘটনায় বড় স্বস্তি পুলিশকর্মীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 23, 20268:58 am
কলকাতা: তৃণমূলের শীর্ষ নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি সরাতে গিয়ে ঘটেছিল এক অনিচ্ছাকৃত ভুল। আর সেই সামান্য ভুলের মাশুল গুণতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত চাকরিটাই হারিয়েছিলেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ধীরেন্দ্রনাথ মাহাত। তবে এবার হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ— “এ যেন লঘু পাপে গুরুদণ্ড!”
বরখাস্ত হওয়া ওই পুলিশকর্মীর চাকরি ফেরত দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? ২০০০ সালে কলকাতা পুলিশে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন ধীরেন্দ্রনাথ মাহাত। ২০০৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাঁকে গাড়ি চালানোর বদলে তুলনামূলক হালকা দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল। ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর অভিষেকের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ির সামনে একটি মোবাইল টয়লেট ভ্যানে ডিউটিতে ছিলেন তিনি।
সেদিন টয়লেট ভ্যানটি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ধীরেন্দ্রনাথ নিজেই গাড়িটি সরানোর চেষ্টা করেন, কারণ তখন মূল চালক সেখানে ছিলেন না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ভুল করে ব্যাক গিয়ার পড়ে যাওয়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রক্ষাকবচ হিসেবে থাকা গার্ডরেলে এবং অভিষেকের বাড়ির প্রবেশদ্বারে ধাক্কা মারে।
সাসপেনশন থেকে বরখাস্তের টানাপোড়েন: ঘটনার পর পরই ধীরেন্দ্রনাথকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়। পরবর্তীকালে সেই সাসপেনশন তুলে নেওয়া হলে তিনি পুনরায় কাজে যোগ দেন। কিন্তু গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আচমকা শো-কজ নোটিস দেওয়া হয় এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাইকোর্টের স্বস্তিদায়ক পর্যবেক্ষণ: চাকরি হারিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ধীরেন্দ্রনাথ। তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মামলার শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়:
- পুলিশকর্মী হিসেবে ধীরেন্দ্রনাথ কাজে ভুল করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটির জন্য লঘু শাস্তিই যথেষ্ট ছিল।
- এটি কোনোভাবেই চাকরি কেড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ নয়।
- এই ভুলের কারণে কেউ আহত হননি বা বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
আদালতের এই মানবিক ও যুক্তিসঙ্গত পর্যবেক্ষণের পরই ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতর চাকরি পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করে রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশে নতুন করে আশার আলো দেখছেন ভুক্তভোগী ওই পুলিশকর্মী।
