লন্ডনে চার দেশীয় ইউনিটি কাপে খেলবে ভারত, প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নাইজেরিয়া ও জামাইকা

আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় নিজেদের শক্তি পরখ করে নিতে ফের একবার বিলেত সফরে যাচ্ছে ভারতীয় দল। আগামী ২৬ থেকে ৩০ মে লন্ডনে আয়োজিত হতে চলেছে চার দেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘ইউনিটি কাপ’। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ছাংতে, রায়ান উইলিয়ামসদের প্রতিপক্ষ হতে চলেছে শক্তিশালী নাইজেরিয়া এবং জামাইকা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে ২১ ও ৭১ নম্বরে থাকা এই দুই দেশই টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে। বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছাতে না পারলেও দল হিসেবে তারা অত্যন্ত শক্তিশালী।
টুর্নামেন্টটি নক-আউট ফরম্যাটে আয়োজিত হবে, যেখানে চতুর্থ প্রতিযোগী হিসেবে আফ্রিকার কোনো একটি দেশের নাম ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দু’টি সেমিফাইনালের জয়ী দল ফাইনাল খেলবে এবং পরাজিত দলগুলো লড়বে তৃতীয় স্থানের জন্য। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডে যেসব দেশের বড় জনজাতি বা কমিউনিটি রয়েছে, তাদের নিয়েই মূলত এই ইউনিটি কাপের আয়োজন। ভারতকে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা ব্লু টাইগার্সদের জন্য এক বিশাল বড় প্রাপ্তি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় দলের জন্য ইংল্যান্ড সফর নতুন কিছু নয়। ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিক ছিল ভারতের প্রথম ইংল্যান্ড যাত্রা। এরপর ২০০০ সালে শেষবার পূর্ণাঙ্গ সফরে বাইচুং ভুটিয়ার নেতৃত্বাধীন দল ফুলহ্যাম এবং ওয়েস্ট ব্রমউইচের মতো ক্লাবের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। দীর্ঘ ২৬ বছর পর ফের ব্রিটিশভূমে পা রাখতে চলেছে ভারত। ইংল্যান্ডে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদী।
বর্তমানে কোচ খালিদ জামিলের অধীনে ভারতীয় দল যথেষ্ট ছন্দে রয়েছে। সাম্প্রতিক এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছেন ফুটবলাররা। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নজর কেড়েছেন রায়ান উইলিয়ামস। কোচের মতে, দলীয় সংহতিই ভারতের প্রধান শক্তি এবং ইউনিটি কাপে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের পাশাপাশি র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির লক্ষ্যে এই মেগা টুর্নামেন্ট ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
