লিথাল ইঞ্জেকশন দিয়ে ফের ২০০ পথকুকুর খুনের অভিযোগ, তেলঙ্গানায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১০০ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তেলঙ্গানায় পথকুকুরদের ওপর নৃশংসতা থামার লক্ষণ নেই। ফের বিষাক্ত লিথাল ইনজেকশন দিয়ে প্রায় ২০০টি কুকুরকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল হানমকোন্ডা জেলায়। এই নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রাজ্যে মোট মৃত কুকুরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১০০-র বেশি।
পঞ্চায়েত প্রধানদের মদতে গণহত্যালীলা
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পশুপ্রেমী সংস্থা ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’-র দাবি, গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে খোদ পঞ্চায়েত প্রধানদের উসকানিতেই এই নিধনযজ্ঞ চলছে। অভিযোগ, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা কুকুরের উৎপাত বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন সেই ‘প্রতিশ্রুতি’ পূরণ করতেই সুপরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করে কুকুর মারা হচ্ছে এবং প্রমাণ লোপাটে দেহগুলো মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশি তৎপরতা ও মামলা
এই নৃশংস ঘটনায় সোমবার শায়মপেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পশুপ্রেমী কর্মী আদিলাপুরম গৌতম। পুলিশ জানিয়েছে:
- হানমকোন্ডার শায়মপেট ও আরেপল্লি গ্রামে ৩০০টি কুকুর হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই মহিলা সরপঞ্চ ও তাঁদের স্বামীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে FIR হয়েছে।
- ইয়াচারাম গ্রামে ১০০ এবং কামারেড্ডি জেলায় ২০০টি কুকুর খুনের দায়ে একাধিক সরপঞ্চ ও পঞ্চায়েত সচিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- জগতিয়াল জেলাতেও ৩০০টি কুকুরকে ইনজেকশন দিয়ে মারার অভিযোগ রয়েছে।
ক্রমাগত বাড়ছে আতঙ্ক
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক একই ধরনের অভিযোগ আসায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশ অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করলেও, জনপ্রতিনিধিদের এমন অমানবিক ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশুপ্রেমীরা। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
