লেকটাউন থেকে সরল মেসির ৭০ ফুটের মূর্তি, বড়সড় বিপদের আশঙ্কাতেই কি এই পদক্ষেপ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
লেকটাউনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, ফুটবল সম্রাট লিয়োনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু মূর্তিটি অবশেষে সরিয়ে ফেলা হল। সোমবার দুপুরে পূর্ত দফতরের (পিডব্লিউডি) উদ্যোগে হাইড্রলিক ক্রেন ব্যবহার করে মূর্তিটি কাঠামো থেকে নামিয়ে ট্রাকে তোলা হয়। আপাতত এটি পূর্ত দফতরের তত্ত্বাবধানে রাখা হচ্ছে। তবে মূর্তিটি স্থায়ীভাবে কোথায় পুনর্বাসন পাবে, তা নিয়ে রাজ্য সরকার এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। সূত্র মারফত রবীন্দ্র সরোবর বা ইকো পার্কের নাম উঠে এলেও সরকারি সিলমোহর এখনও মেলেনি।
ঝুঁকি এড়াতে তড়িঘড়ি অপসারণ
কয়েক দিন আগে প্রবল ঝড়ের কারণে বিশাল এই মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মারফত খবর পেয়ে লেকটাউন থানা এবং পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরীক্ষা করে দেখা যায়, মূর্তির ‘ফাউন্ডেশন বোল্ট’-এ বড়সড় গলদ রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারত। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মূর্তিটি অক্ষত অবস্থায় সরানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে স্ক্রু ও কাঠামো আলগা করে মূর্তিটি নামানো হয়েছে।
বিতর্কের ইতিহাস ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত বছরের ডিসেম্বরে মেসির কলকাতা সফরের সময় এই মূর্তির উন্মোচন হয়েছিল, যা স্বয়ং মেসি রিমোট টিপে উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই এই মূর্তিটি আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। সরকারি জমিতে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। এই মূর্তি স্থাপনের নেপথ্যে থাকা রাজ্যের পূর্বতন সরকারের মন্ত্রী সুজিত বসু সম্প্রতি পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় বিতর্ক আরও দানা বাঁধে।
তাছাড়া, মেসির সেই সফরের সময় যুবভারতী স্টেডিয়ামের বিশৃঙ্খলা এবং দর্শকদের ক্ষোভের ঘটনাটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়া কেবল পরিকাঠামোগত সুরক্ষাই নিশ্চিত করল না, বরং লেকটাউন এলাকার একটি দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের অধ্যায়েও সাময়িক বিরতি টানল। এলাকাটি এখন দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি থেকে মুক্ত।
