লোকসভায় তৃণমূলের ভাঙনের নেপথ্যে ‘কাকলি মডেল’! কেন বিদ্রোহ ঘোষণা দীর্ঘদিনের সাংসদের? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভায় নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই বিদ্রোহী হয়ে নতুন ব্লক তৈরি করেছেন এবং তাঁরা এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিরাট ভাঙনের নেপথ্যে রয়েছেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভায় তৃণমূল ভাঙানোর এই প্রক্রিয়াকে ইতিমধ্যেই ‘কাকলি মডেল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এই চরম টানাপোড়েনের মাঝেই নিজের অবস্থান এবং দল ছাড়ার কারণ নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
মমতার প্রতি সম্মান রেখেই দলত্যাগের ব্যাখ্যা
কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও তাঁর পথপ্রদর্শক, মেন্টর এবং নেত্রী। গত ৪০ বছর ধরে তিনি মমতার পাশে থেকেছেন এবং ২০০৯ সালের আগে ক্ষমতা না থাকা অবস্থাতেও পরপর পাঁচটি নির্বাচনে লড়ে দলের হয়ে পরাজিত হয়েছেন। তাই তৃণমূল বর্তমানে ক্ষমতায় নেই বলেই তিনি দল ছাড়ছেন, বিরোধীদের এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত মূলত দলের বর্তমান নীতি ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে।
বিদ্রোহের মূল কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাংসদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন না, তখন দলের জনমুখী নীতি থাকলেও গত তিন-চার বছরে সেই পরিস্থিতি চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চলচ্চিত্র শিল্প থেকে শুরু করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা কার্যত ভেঙে পড়েছে। দলের অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি আধিকারিকদের ওপর নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার অন্যায্য চাপ সৃষ্টির কারণেই তিনি দল থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের উন্নয়ন ও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁরা আলাদাভাবে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন।
এই ‘কাকলি মডেল’-এর প্রভাবে লোকসভায় তৃণমূল কার্যত কোণঠাসা। বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের তালিকায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, শর্মিলা সরকারের মতো হেভিওয়েট তারকা ও রাজনীতিকদের নাম রয়েছে। একসঙ্গে এতজন সাংসদের দলত্যাগ ও এনডিএ-তে যোগদানের সম্ভাবনা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
