শওকতের ‘জাল’ ডিগ্রি বিতর্ক! FIR-এ নাম জড়াল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও – এবেলা

শওকতের ‘জাল’ ডিগ্রি বিতর্ক! FIR-এ নাম জড়াল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার শিক্ষাগত যোগ্যতার হলফনামা ঘিরে এবার রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল। ‘ভুয়ো’ ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-এ (FIR) শুধু শওকত নন, নাম জড়াল খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদেরও!

কী এই ডিগ্রি-বিতর্ক? বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) বারুইপুরের পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দের দফতরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনকে দেওয়া হলফনামায় শওকত মোল্লা দাবি করেছেন তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ (MA) পাশ। শুধু তাই নয়, রাজস্থানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ‘রেগুলার কোর্সে’ স্নাতকও হয়েছেন। এখানেই উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন! ২০১৬ সাল থেকে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি কীভাবে তিনি রাজস্থানে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস করলেন?

তদন্তে পুলিশ: ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ-র (NIA) হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার শওকতের বিরুদ্ধে এই জাল শংসাপত্র চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠল। গোটা ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআই ভাঙড়, স্বপন কুমার ছাবডিকে।

কেন এফআইআর-এ অভিষেকের নাম? এই মামলায় শওকত ছাড়াও এফআইআর-এ নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং অয়ন ঘোষ দস্তিদারের। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের কটাক্ষ, “উনি বড়জোর পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণি পাশ, খোদ তৃণমূল নেত্রীই বলেছিলেন উনি বোমা বাঁধতেন। রাতারাতি এই ডিগ্রি লাভ আসলে এক বিরাট ভুয়ো শংসাপত্র চক্রের ফসল।”

অভিষেকের নাম জড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে অভিজিৎ বলেন, “অভিষেকের ডান হাত ও বাঁ হাত হলেন জাহাঙ্গীর খান এবং শওকত মোল্লা। সরকারি নথিতে ধারাবাহিকভাবে জাল ডিগ্রি ব্যবহারের নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী বা মধ্যস্থতাকারীদের মদত ছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।” সেই কারণেই অভিষেক ও তাঁর আপ্তসহায়কদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *