শপথের আগেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন তারেক রহমান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তবে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে দিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির।
হাসিনাকে ফেরাতে চায় বিএনপি কিন্তু বজায় থাকবে বন্ধুত্ব
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। তাঁর শাসনামলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সমীকরণ কেমন হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং সাধারণ মানুষ তাঁর বিচার চায়। তাই ভারতকে অনুরোধ করা হবে হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ইস্যু দুই দেশের বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ পাগলের প্রলাপ
বাংলাদেশের কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ভারতের সঙ্গে সংঘাতের কথা তুললেও বিএনপি সেই পথে হাঁটতে নারাজ। ফখরুল বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। যারা লড়াইয়ের কথা বলে, তারা আসলে পাগলের প্রলাপ বকছে। আমেরিকা ও চীন যদি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে ভারত ও বাংলাদেশ কেন পারবে না?”
আলোচনার টেবিলে গঙ্গা ও সীমান্ত সমস্যা
আসন্ন দিনে ভারতের সঙ্গে কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, তার একটি রূপরেখাও দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, গঙ্গা জলচুক্তি পুনর্নবীকরণ এবং সীমান্ত সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চায় নতুন সরকার। এছাড়া বাংলাদেশের বেকারত্ব দূর করতে ভারতের কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।
তারেক রহমানের নীরবতা ও কৌশলী অবস্থান
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুব একটা মধুর ছিল না। তবে এবার তারেক রহমান যথেষ্ট সতর্ক। লন্ডন থেকে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ভারতবিরোধী কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিতই দিচ্ছে তাঁর দল। জিয়াউর রহমানের আমল থেকে দিল্লির সঙ্গে বিএনপির সুসম্পর্কের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে ফখরুল বুঝিয়েছেন, তাঁরা সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

