শরীরে খুশির জোয়ার আনবে এই বিশেষ খাবারগুলো মন ভালো রাখার ম্যাজিক টিপস জেনে নিন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মানসিক চাপ ও ব্যস্ততার জীবনে মনকে চনমনে রাখতে এবং শরীরে ‘সুখী হরমোন’ বা হ্যাপি হরমোনের ক্ষরণ বাড়াতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের মতে ডোপামিন, সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিনের মতো হরমোনগুলো আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ, ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য দায়ী। কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত তালিকায় রাখলে এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য বজায় থাকে এবং মানসিক অবসাদ দূর হয়।
সুখী হরমোন বাড়াতে ডায়েটে যা রাখবেন
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার: আখরোট, চিয়া সিড, তিসির বীজ এবং স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছ সেরোটোনিন উৎপাদনে সরাসরি সাহায্য করে।
ডার্ক চকোলেট: এতে থাকা বিশেষ উপাদান মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নিঃসরণ ঘটিয়ে মুহূর্তেই মন ভালো করে দেয়।
দই ও প্রোবায়োটিক: অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সাথে মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দই, কিমচি বা আচারের মতো প্রোবায়োটিক খাবার হজমশক্তি ভালো রাখার পাশাপাশি মেজাজ ফুরফুরে রাখে।
তাজা ফলমূল: কলাতে থাকা ট্রিপটোফ্যান এবং স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা আমলকির মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলগুলো শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট: ডিম, পনির, মসুর ডাল এবং সয়া পণ্য ডোপামিন তৈরিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ওটস বা ব্রাউন রাইসের মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট শরীরে ট্রিপটোফ্যান শোষণে সহায়তা করে।
বাদাম ও বীজ: কুমড়ার বীজ এবং বিভিন্ন ধরণের বাদামে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মানসিক চাপ কমাতে কার্যকরী।
কেন এই খাবারগুলো জরুরি?
শরীরের ডোপামিন আমাদের কাজে মনোযোগ ও আনন্দ বাড়ায়। সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রণ করে ঘুম ও মেজাজ, আর এন্ডোরফিন প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে স্ট্রেস কমায়।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
খাবার দাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট রোদে থাকা ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণ করে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে অপরিহার্য। এই নিয়মগুলো মেনে চললে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং জীবন হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।

