শান্তিচুক্তির মাঝেই রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালী, ট্রাম্পের হুঙ্কারে কি আবারও যুদ্ধের মুখে আরব দুনিয়া? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত ৭ এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে পারস্য উপসাগরে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনী ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি গোলাগুলি বিনিময়ের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক মাসের মধ্যে এটিই সবথেকে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, পণ্যবাহী ও যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাল্টা প্রতিরোধের পথে তেহরান
মার্কিন হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন বিমান হামলায় জনবসতিপূর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান তাদের আকাশসীমায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করেছে। এমন এক সময়ে এই সংঘাত ঘটল, যখন তেহরান তিন ধাপের একটি শান্তি প্রস্তাব বিবেচনা করছিল। এই প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার কথা থাকলেও নিউক্লিয়ার ইস্যু এবং নৌ-চলাচলের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো আবারও আলোচনার টেবিল থেকে রণক্ষেত্রে গড়িয়েছে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও বৈশ্বিক প্রভাব
এই সামরিক সংঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ইরানকে সতর্ক করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দ্রুত চুক্তিতে না এলে আরও জোরালো এবং ‘হিংস্র’ হামলা চালানো হবে। যদিও এই সংঘর্ষকে তিনি স্রেফ একটি ‘লাভ ট্যাপ’ বা ভালোবাসার ছোঁয়া বলে লঘু করার চেষ্টা করেছেন, তবে তার বার্তায় বড় ধরনের যুদ্ধের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এখানে অস্থিরতা বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান মুখে যুদ্ধের অনীহা প্রকাশ করলেও কামানের লড়াই এবং পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
