শান্তিতে ঘুমের মাঝেই চিরবিদায়! কেন মাঝরাতে থমকে যায় প্রাণের স্পন্দন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অনেকের কাছেই ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হলো সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও যন্ত্রণাহীন বিদায়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে মানুষ যখন শান্তির খোঁজে বিছানায় যায়, তখন অবচেতন মনেই সে এক অন্য জগতে প্রবেশ করে। কিন্তু এই প্রশান্তির ঘুমই কারো কারো জীবনে শেষ রাত হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘রাতের মৃত্যু’ বলা হলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে বেশ কিছু জটিল শারীরিক ও চিকিৎসাগত কারণ।
হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও আকস্মিক ঝুঁকি
ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। পরিসংখ্যান বলছে, রাতের বেলা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় কিছুটা বেশি। এছাড়া হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যারিথমিয়ার কারণে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, যা গভীর ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও শ্বাসকষ্টের প্রভাব
হার্ট অ্যাটাকের পাশাপাশি স্ট্রোক ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কের রক্তনালীতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে বা নালী ফেটে গেলে রোগী সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকার সুযোগ পান না। অন্যদিকে, কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর বা তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে ঘুমের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়ে আকস্মিক প্রাণহানি ঘটতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, রাতে শোয়ার সময় বুকে অস্বস্তি বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমানোর অভ্যাস এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে সহায়ক হতে পারে।
এক ঝলকে
- ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং হার্ট অ্যাটাক।
- অ্যারিথমিয়া বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়।
- স্ট্রোক এবং মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হওয়া ঘুমন্ত অবস্থায় অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত হাঁটাচলার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
