শাসকই ঘাতক! সোনারপুরে অভিষেক-কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, তুঙ্গে বাগযুদ্ধ – এবেলা

শাসকই ঘাতক! সোনারপুরে অভিষেক-কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, তুঙ্গে বাগযুদ্ধ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আকস্মিক হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ। খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তাদের কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করে সবাইকে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতীয় স্তরের বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ক্ষোভ উগরে দিল তৃণমূল ও বিরোধী শিবির

ঘটনার পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘শাসকই ঘাতকে পরিণত হয়েছে।’ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন সর্বভারতীয় স্তরের বিরোধী নেতারাও। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এই ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিরোধী নেতার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষার অভাব ইচ্ছাকৃত এবং এটি বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। একই সুরে সুর মিলিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, এই প্রাণঘাতী হামলার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা বিদ্বেষপূর্ণ ও হিংসাত্মক রাজনীতি ছাড়া কিছুই করতে পারে না। সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের অনুপস্থিতি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি দাবি করেন।

পাল্টা যুক্তি বিজেপির, খোঁচা বামেদের

অভিষেকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সবাইকে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন। পুলিশের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের প্রতিনিধি হিসেবে এর উত্তর তাঁর জানা নেই, এটি রাজ্য সরকারই বলতে পারবে। অতীতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অত্যাচারের মুখেও বিজেপি সংযত ছিল বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত আছে। অন্যদিকে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই হামলাকে ‘অকাম্য’ বলে আখ্যা দিলেও তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। তিনি মন্তব্য করেন, অভিষেক আগে শত শত পুলিশের প্রহরায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন, যা গণতন্ত্রে মানায় না। তবে এই ঘটনার পেছনে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রাখার জন্য বিজেপি-আরএসএসের কোনো কৌশল থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

ঘটনার সূত্রপাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

শনিবার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই একদল বিক্ষোভকারী তাঁর ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, নিহত কর্মীর বাড়ির ঢোকার মুখে অভিষেকের মাথায়, ঘাড় ও গায়ে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয়, তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং চশমা ভেঙে ফেলা হয়। এমনকি যে বাইকে করে তিনি যাচ্ছিলেন সেটিও ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার পর এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি কাদা ছোড়াছুড়ির ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *