শি জিনপিংয়ের ২-৩ বার হার্ট অ্যাটাক! তিব্বতি নেতার দাবিতে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চিনা প্রেসিডেন্টের গুরুতর অসুস্থতা ও ক্ষমতার লড়াই: চাঞ্চল্যকর দাবি তিব্বতি নেতার
চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য এবং চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে এক বড়সড় বোমা ফাটালেন তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লোবসং সাংগে। তিনি দাবি করেছেন, শি জিনপিং ইতিমধ্যে অন্তত দুই থেকে তিনবার হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। দিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি চিনা প্রশাসনের অন্দরমহলের এই গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আনেন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি ও মানসিক চাপ লোবসংয়ের মতে, জিনপিংয়ের শারীরিক অবস্থা মোটেও স্থিতিশীল নয়। তাঁর কথায়:
- শারীরিক লক্ষণ: জিনপিংয়ের মুখমণ্ডলে অস্বাভাবিক ফোলা ভাব এবং হাঁটাচলায় অস্পষ্টতা প্রমাণ করে যে তিনি প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
- প্রকাশ্যে অসুস্থতা: সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে বিমান থেকে নামার সময় তাঁকে এতটাই অসুস্থ ও দুর্বল দেখাচ্ছিল যে, স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সাহায্য নিয়ে তাঁকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়।
- রহস্যময় অন্তর্ধান: এর আগে টানা ৩-৫ সপ্তাহ তাঁর লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর অসুস্থতার জল্পনাকেই উসকে দেয়।
চিনা সেনার অন্দরে অস্থিরতা তিব্বতের এই প্রাক্তন নেতার মতে, শুধু অসুস্থতাই নয়, ক্ষমতা হারানোর প্রবল ভয়েও ভুগছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। সেই কারণেই তিনি নিজের হাতে নিয়োগ করা সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের আচমকা পদচ্যুত বা গায়েব করে দিচ্ছেন। বর্তমানে জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে সেনাপ্রধানদের চেয়েও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তরাধিকারী নিয়ে জটিলতা ও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা জিনপিং কেন এখনও তাঁর উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেননি, সে বিষয়েও চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ দিয়েছেন লোবসং।
- উত্তরাধিকারী ঘোষণা করলে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়া বা গুপ্তহত্যার শিকার হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে জিনপিংয়ের।
- অন্যদিকে, উত্তরাধিকারী না থাকলে দেশে ক্ষমতার লোভে গৃহযুদ্ধ বেধে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা চিনের ইতিহাসেও বারবার দেখা গেছে। গদি বাঁচাতে জিনপিং একপ্রকার ‘মেঘের আড়ালে’ থেকে সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন বলে তিনি কটাক্ষ করেন।
প্রেক্ষাপট: তিব্বতের নির্বাসিত সরকার ১৯৫০ সালে চিন তিব্বত দখল করার পর, ১৯৫৯ সালে দলাই লামা-সহ হাজার হাজার তিব্বতি নাগরিক ভারতে এসে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই ভারতের মাটি থেকে (বিশেষত ধর্মশালা থেকে) তিব্বতের নির্বাসিত সরকার চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের লড়াই ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
