শিকাগোর গুরুদ্বারে ভারতীয় কূটনীতিককে সম্মান, ক্ষোভে ফেটে পড়ল খলিস্তানপন্থীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার শিকাগো শহরের পেলাটাইন এলাকায় অবস্থিত শিখ রিলিজিয়াস সোসাইটি গুরুদ্বারে ভারতীয় কনসাল জেনারেল সোমনাথ ঘোষকে বিশেষ সম্মাননা ‘সিরোপা’ প্রদান করাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় খালিস্তানপন্থী সংগঠন এবং কিছু শিখ কর্মী গুরুদ্বারের অভ্যন্তরেই চরম অসন্তোষ ও বিরোধিতা প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে গুরুদ্বারে এভাবে সম্মানিত করা শিখ সম্প্রদায়ের আবেগের পরিপন্থী।
বিতর্কের কারণ ও মার্কিন সংস্থার কাছে তদন্তের দাবি
বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ গুরুদ্বারের পরিচালনা কমিটি এবং প্রবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ী দর্শন ধালিওয়ালের ভূমিকার ওপর। খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কানাডা, আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে শিখ কর্মীদের ওপর নজরদারি এবং চাপ সৃষ্টির পেছনে ভারত সরকারের ভূমিকা রয়েছে, যদিও ভারত এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) এবং দেশটির বিচার বিভাগের কাছে গুরুদ্বার কমিটি ও ভারতীয় কূটনীতিকদের মধ্যকার সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিকাগো এবং তার আশেপাশের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে কিছু সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ ভারতীয় কূটনীতিককে সম্মানিত করার বিষয়টিকে সমর্থন করছেন, অন্যদিকে কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো একে তীব্র প্রতিরোধ জানানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রবাসে শিখ সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে শিখ ধর্মীয় স্থানগুলোতে ভারতীয় কূটনীতিকদের যাতায়াত ও দ্বিপাক্ষিক জনসংযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এক ঝলকে
এই ঘটনার ফলে আমেরিকার প্রবাসী শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও বিভাজন দেখা দিয়েছে।
আমেরিকার শিকাগোর পেলাটাইন গুরুদ্বারে ভারতীয় কনসাল জেনারেল সোমনাথ ঘোষকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।
সম্মাননার প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলো গুরুদ্বার কমিটি এবং ব্যবসায়ী দর্শন ধালিওয়ালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে গুরুদ্বার কমিটির আঁতাত ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে এফবিআই (FBI) তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।
