শিক্ষক নেই, ভাঙাচোরা ক্লাসরুম! ‘স্কুল ঠিক করো’ দাবিতে জ্বলছে ফ্রান্স, গ্রেফতার প্রায় ১৮০০ – এবেলা

শিক্ষক নেই, ভাঙাচোরা ক্লাসরুম! ‘স্কুল ঠিক করো’ দাবিতে জ্বলছে ফ্রান্স, গ্রেফতার প্রায় ১৮০০ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্যারিস: জীর্ণ স্কুল ভবন, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব এবং উপচে পড়া ক্লাসরুম—এই তিন প্রধান সংকটে বর্তমানে উত্তাল গোটা ফ্রান্স। ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। ‘স্কুল ঠিক করো’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই ‘Gen Z’ আন্দোলন বর্তমানে হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে, যার আঁচ গিয়ে পড়েছে প্রতিবেশী বেলজিয়ামেও।

বিক্ষোভের নেপথ্যে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ পুরোপুরি কঙ্কালসার। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না, সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্কুল। অনেক ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা পর্যন্ত নেই। বহু স্কুলের ভবন জীর্ণ দশা প্রাপ্ত হওয়ায় তা যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিক থেকে উন্নত শিক্ষা ও পরিকাঠামোর দাবিতে শত শত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

সহিংসতা, ক্ষয়ক্ষতি ও গ্রেফতারের বিবরণ প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তুলুজ, মন্তপেলিয়ে ও মার্সেইসহ একাধিক শহরে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

  • স্কুল বন্ধ ও ক্ষয়ক্ষতি: ফ্রান্সের আইনমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩,৭০০টি স্কুলের মধ্যে অন্তত ৭৩৫টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এডোওয়ার্ড জেফ্রে জানান, ২৪টি স্কুল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৭৮ জনের বেশি শিক্ষাকর্মী আহত হয়েছেন। নিরাপত্তার খাতিরে ৫০০-র বেশি স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে।
  • গ্রেফতারের সংখ্যা: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ১,৮০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
  • ক্ষোভের কারণ: লেন্স শহরে সংঘর্ষ চলাকালীন ১৫ বছর বয়সি এক পড়ুয়ার হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রাম্পের বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্য ফ্রান্সের এই অভ্যন্তরীণ ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের পেছনে শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং ‘গণ-অভিবাসন’ এবং ‘ইসলাম ধর্ম’ দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই দক্ষিণপন্থী মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সীমান্ত পেরিয়ে বেলজিয়ামেও আঁচ, চাপে ম্যাক্রোঁ সরকার ফ্রান্সের এই দাবানল সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২৭ সালে ফ্রান্সে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগেই যেভাবে শিক্ষার্থীরা হিংসাত্মক আন্দোলনে নেমেছে, তাতে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের ওপর চরম রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও ফ্রান্স সরকারের দাবি, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *