শিবরাত্রিতে অজানতেই মিলবে মুক্তি! জেনে নিন ২০২৬ সালের ব্রতকথা ও চার প্রহরের পূজোর সঠিক সময় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 15, 202611:44 am
হিন্দুধর্মে মহাদেবকে তুষ্ট করার শ্রেষ্ঠ তিথি হলো মহা শিবরাত্রি। ২০২৬ সালে এই পুণ্য উৎসব পালিত হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি। শিবপুরাণ অনুযায়ী, এই বিশেষ রাতে নিষ্ঠাভরে দেবাদিদেবের আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত জটিলতা ও কষ্ট দূর হয়।
শুভ সময় ও তিথি
পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণ স্থায়ী হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত। শিবরাত্রির মূল উপবাস ও রাত্রি জাগরণ ১৫ ফেব্রুয়ারিই পালন করা হবে।
চার প্রহরের বিশেষ পূজো বিধি
মহা শিবরাত্রিতে চার প্রহরের পূজোর আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। শাস্ত্র মেনে শিবলিঙ্গে অভিষেকের নিয়মগুলি হলো:
- প্রথম প্রহর: দুধ দিয়ে অভিষেক।
- দ্বিতীয় প্রহর: দই দিয়ে অভিষেক।
- তৃতীয় প্রহর: ঘি দিয়ে অভিষেক।
- চতুর্থ প্রহর: মধু দিয়ে অভিষেক।
কেন পালিত হয় এই ব্রত?
মহাপুরাণের এক প্রচলিত কাহিনী অনুসারে, প্রাচীনকালে বারাণসীর এক শিকারি বনের মধ্যে পথ হারিয়ে একটি বেলগাছের ওপর আশ্রয় নেন। সেই গাছের নিচেই ছিল একটি শিবলিঙ্গ। ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত শিকারি ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে অজান্তেই গাছের বেলপাতা ছিঁড়ে নিচে ফেলতে থাকেন, যা সরাসরি শিবলিঙ্গের ওপর পড়ে। পরদিন সকালে এক যাচককে নিজের সামান্য খাবার দান করে তিনি উপবাস ভঙ্গ করেন।
শিকারির এই অজান্তেই করা শিবপূজা ও উপবাসে মহাদেব এতটাই সন্তুষ্ট হন যে, মৃত্যুর পর যমদূতরা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। স্বয়ং শিবদূতরা এসে তাকে শিবলোকে নিয়ে যান। এই কাহিনী প্রমাণ করে যে, ভোলানাথ বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং ভক্তের সরল ভক্তি ও পবিত্র হৃদয়েই তুষ্ট হন।

