শিরোনামে মমতা ও কাকলির সংঘাত, এবার কি লোকসভাতেও ভাঙনের মুখে তৃণমূল? – এবেলা

শিরোনামে মমতা ও কাকলির সংঘাত, এবার কি লোকসভাতেও ভাঙনের মুখে তৃণমূল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও কি বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ধরার এই গুঞ্জনের মাঝেই এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যর্থতাকে’ কাঠগড়ায় তুলে সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করলেন বারাসাতের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ৪ জুনের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির কারণ হিসেবে পরোক্ষে সরকারের নীতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না-করে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। দলনেত্রীর দাবি ছিল, বিধানসভা নির্বাচনে কাকলির পুত্রকে টিকিট না দেওয়ার কারণেই সাংসদ এখন ‘বেসুরো’ মন্তব্য করছেন। এর পাল্টা জবাবেই শুক্রবার সমাজমাধ্যমে সরব হন বারাসাতের সাংসদ। তিনি স্পষ্ট জানান, চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা চার বারের এক সাংসদ নিজের স্বার্থের কথা ভাবছেন না, বরং মানুষের এই রায় আদতে সরকারের নীতি ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই গিয়েছে।

ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও দলীয় কোন্দল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্বের সূত্রপাত মূলত লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর। কাকলির জায়গায় সেখানে আনা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই পদ হারানোর পরেই আনুগত্যের অবমূল্যায়ন নিয়ে সরব হন কাকলি। এরপর নদিয়ার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রদান করার ঘটনা বিজেপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

তৃণমূলে গভীর সংকটের ইঙ্গিত

ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই পদে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন দলের ৫৯ জন বিধায়ক। বিধানসভার এই বিদ্রোহের আঁচ এবার লোকসভা সংসদীয় দলেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু দলের একাংশের মধ্যে তাঁকে নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষীয়ান নেতাদের এভাবে প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়ের অভাবকেই প্রকট করছে। বিধানসভার পর যদি লোকসভার সাংসদদের একাংশও একই পথ অনুসরণ করেন, তবে তা শাসকদলের জন্য অত্যন্ত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *