লেটেস্ট নিউজ

শিলচরের বাইপাসে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের ছায়া, হবু স্বামীকে বেঁধে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণ ৭ যুবকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শিলচর, ২৫ ফেব্রুয়ারি: খাস আসামের শিলচরে ঘটে গেল দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের মতো হাড়হিম করা এক অপরাধ। বিয়ের ঠিক আগে হবু স্বামীর সামনেই গণধর্ষণের শিকার হলেন এক তরুণী। গত বৃহস্পতিবার রাতে শিলচর বাইপাসের চেংকুড়ি রোড সংলগ্ন এলাকায় এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার পরের দিনই ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাই-প্রোফাইল সফর ছিল। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মাঝেই কীভাবে এমন জঘন্য অপরাধ ঘটল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য।

ঘটনার বিবরণ: ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তাঁর হবু স্বামীর সঙ্গে গাড়িতে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। রাত ৮টা নাগাদ শিলচর বাইপাসের নির্জন এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাঁরা কথা বলছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎ একটি গাড়ি এসে তাঁদের পথ আটকায়। সেখান থেকে ৭ জন যুবক নেমে আসে।

দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি দেখিয়ে হবু স্বামীকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখে। এরপর তরুণীর ওপর চলে পাশবিক অত্যাচার। যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তরুণীর সোনার আংটি কেড়ে নেয় এবং তাঁর হবু স্বামীর ফোন থেকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।

পুলিশের অ্যাকশন ও অভিযুক্তের বয়ান

ঘটনার পরেই নির্যাতিতা তরুণী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, অন্ধকার হলেও অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তপোবন নগরের বাসিন্দা নীলোৎপল দাস (২৫) নামক এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

জেরায় নীলোৎপল স্বীকার করেছে যে তারা সেই রাতে সেখানে উপস্থিত ছিল। তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে তার দাবি, ওই যুগলকে ‘আপত্তিজনক’ অবস্থায় দেখে তারা ব্ল্যাকমেল করেছিল এবং টাকা আদায় করেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রটি এর আগেও বাইপাস এলাকায় দম্পতিদের টার্গেট করে টাকা হাতিয়েছে। বাকি ৬ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে কাছাড় জেলা পুলিশ।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক উত্তাপ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগের রাতে এমন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ভিভিআইপি মুভমেন্টের জন্য যখন শহরজুড়ে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন ছিল, তখন বাইপাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই দুষ্কৃতী তাণ্ডব চলল কীভাবে?

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাছাড়ের পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারে যদি নারীরাই নিরাপদ না থাকেন, তবে এই উন্নয়নের অর্থ কী?” সাধারণ মানুষও এখন বাইপাস এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলদারির দাবি তুলেছেন।

কাছাড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রজত কুমার পাল জানিয়েছেন, “আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে ধরেছি। মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। দ্রুত বাকিদেরও জালে তোলা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *