শীর্ষ নেতৃত্বহীন ইরানে ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশলে নাজেহাল আমেরিকা ও ইজরায়েল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকা ও ইজরায়েলের টানা ১৪ দিনের ‘অপারেশন সিংহ গর্জন’-এ ইরানের Supreme \titleonly লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্তার মৃত্যু হলেও পিছু হঠেনি তেহরান। গত ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান তার সামরিক কাঠামোকে এমনভাবে সাজিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীন অবস্থাতেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী নতুন Supreme \titleonly লিডার মোজতবা খামেনেই গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনমনীয় লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে প্রাক্তন কমান্ডার মহম্মদ আলি জাফারির তৈরি ‘মোজাইক ডিফেন্স ডকট্রিন’। এই কৌশলের আওতায় ইরান তাদের সেনাকে ৩১টি স্বতন্ত্র ইউনিটে বিভক্ত করেছে। প্রতিটি ইউনিটের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার, গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে তেহরানের মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস হলেও দেশের প্রতিটি প্রান্তে থাকা এই স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিটগুলো শত্রুর মোকাবিলায় সক্ষম।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে লাগাতার হামলা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে ইরান কার্যত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধের ময়দানে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও এই বিকেন্দ্রীভূত সামরিক ব্যবস্থার কারণেই আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করতে পারছে না। বিশ্লেষকদের ভাষায়, জাফারির এই ডকট্রিনই এখন ‘অদৃশ্য শক্তি’ হিসেবে ইরানকে খাদের কিনারা থেকে রক্ষা করে পাল্টা আঘাত হানতে সাহায্য করছে।

