শুকিয়ে যাবে ভাগীরথী-হুগলি? গঙ্গার তাণ্ডব রুখতে ৩ রাজ্যকে নিয়ে বৈঠকে রাজ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 23, 202610:40 am
মালদার মানিকচক ও ভুতনিতে গঙ্গার লাগাতার ও ভয়াবহ ভাঙন এমন বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে যে, নদী ক্রমশ নিজের গতিপথ বদলে ফেলছে। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো—গঙ্গা এখন ফুলহার নদী থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে রয়েছে। এই দুই নদী যদি মিশে যায়, তবে গঙ্গার জলপ্রবাহ ফরাক্কা ব্যারাজকে বাইপাস করে সোজা বাংলাদেশে ঢুকে পড়বে।
কী কী মহা-বিপদের আশঙ্কা?
- স্তব্ধ হতে পারে কলকাতা বন্দর: ফরাক্কা দিয়ে পর্যাপ্ত জল না পৌঁছলে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে মারাত্মক নাব্যতাসঙ্কট দেখা দেবে। এর ফলে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি (কলকাতা) বন্দরে জাহাজ চলাচল স্তব্ধ হয়ে গিয়ে গোটা পূর্ব ভারতের বাণিজ্যে ধস নামতে পারে।
- বিপন্ন জলচুক্তি: ফরাক্কা ব্যারেজ কার্যহীন হয়ে পড়লে ঐতিহাসিক ফরাক্কার জলচুক্তি এবং জাতীয় নদী প্রকল্প চূড়ান্ত সঙ্কটে পড়বে।
- মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার ভয়: মানিকচক ও ভুতনির বিস্তীর্ণ জনবসতি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার মুখে। সঠিক সময়ে বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা না নিলে এলাকাটি মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।
ভাঙনের আসল কারণ কী? সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, এই নদী-ভাঙনের নেপথ্যে রয়েছে বড়সড় ভূতাত্ত্বিক কারণ। বিহার ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে রাজমহল পাহাড় সংলগ্ন গঙ্গার বুকে বিশালাকার চর তৈরি হয়েছে। এর ফলে জলের স্বাভাবিক গতিপথ বাধা পেয়ে তা মালদা ও মুর্শিদাবাদের পাড়ে প্রচণ্ড গতিতে আছড়ে পড়ছে।
আইআইটি-র পরামর্শ ও রাজ্যের পদক্ষেপ:
- পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সেচ দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইআইটি রুরকি (IIT Roorkee)-কে দিয়ে প্রকল্পের মূল ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করানো হয়েছে।
- এছাড়াও আইআইটি কানপুর এবং সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (CWC)-এর বিশেষজ্ঞদের থেকেও প্রযুক্তিগত পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
তিন রাজ্যের সমন্বয় ও কেন্দ্রীয় সাহায্যের দাবি: রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস জানিয়েছেন, বিপুল খরচের এই কাজ কোনও একটি রাজ্যের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। তাই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) জমা দেওয়া হয়েছে। গঙ্গা অববাহিকার তিন রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডকে নিয়ে দ্রুত সমন্বিত বৈঠক ডেকে যৌথভাবে কাজ শুরু করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।
