শুভেন্দুর মুখোমুখি মমতাপন্থী ৫ বিধায়ক, নেত্রীর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিয়ে নজিরবিহীন বৈঠক! – এবেলা

শুভেন্দুর মুখোমুখি মমতাপন্থী ৫ বিধায়ক, নেত্রীর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিয়ে নজিরবিহীন বৈঠক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য বিধানসভা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আচমকাই দেখা করলেন মমতাপন্থী পাঁচ শীর্ষ তৃণমূল বিধায়ক। কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, অশোক দেব, আবদুর রহিম বক্সি ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের এই প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। মূলত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা আংশিক প্রত্যাহার, বিধানসভায় ঘর বরাদ্দ এবং হকার উচ্ছেদ ইস্যুতেই এই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

নিরাপত্তা বিতর্ক ও পুর্নবহালের আর্জি

ঘটনার সূত্রপাত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (পিএসও) পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের দাবি, বুধবার রাতে লালবাজার থেকে নেত্রীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘ ২০ বছরের সঙ্গী দুই পিএসও স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে সরিয়ে অন্য তিনজনকে পাঠানো হয়। এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ’ বলে দাবি করে রাতেই কালীঘাটে বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মীরা। বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন পাঁচ বিধায়ক। তাঁরা পুরোনো নিরাপত্তারক্ষীদের বহাল রাখার আর্জি জানান। অন্যদিকে, নবান্ন ও সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ম অনুযায়ী এখনও ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তাই পাচ্ছেন, যেখানে প্রায় ৫০ জন কর্মী নিয়োজিত থাকেন। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিউটি রস্টার পরিবর্তনশীল হওয়ায় নির্দিষ্ট কাউকে স্থায়ীভাবে রাখা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধায়কদের এই আর্জি ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

উচ্ছেদ নীতি ও বিধানসভার অধিকার রক্ষা

নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈঠকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে বিধায়করা জানান, রাতারাতি হাজার হাজার মানুষকে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করে বেকার করে দেওয়া সমীচীন নয়। তাঁরা আগে পুনর্বাসন, পরে উচ্ছেদের দাবি তোলেন। এর পাশাপাশি বিধানসভায় তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ঘর খুলে দেওয়া এবং অধিবেশনে বলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। বৈঠকের পর কুণাল ঘোষ জানান, আলোচনা অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আলাদা ঘরের ব্যবস্থা এবং বলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে যেমন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও নিয়ম নীতি নিয়ে শাসক-বিরোধী সংঘাত রাজপথে ও প্রশাসনিক স্তরে তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে বিধানসভার ভেতরে দুই বিবদমান পক্ষের এই আলোচনা রাজনৈতিক সৌজন্যের এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। তবে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ এবং ঘর রাজনীতির জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *