শূভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক খুনে নাটকীয় মোড়, উত্তরপ্রদেশে আত্মসমর্পণ কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনুর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে অবশেষে জালে জড়াল মূল অভিযুক্ত। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু। আদালত তাকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুনের পর থেকেই পলাতক ছিল এই পেশাদার অপরাধী।
তদন্তের চাপ ও অপরাধের নেপথ্য কারণ
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে মনুর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে মনুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন গোয়েন্দারা। এরপরই উত্তরপ্রদেশে তার ডেরায় দফায় দফায় অভিযান এবং পরিবারের সদস্যদের জেরার মুখে পড়ে তীব্র মানসিক চাপে পড়ে যায় এই গ্যাংস্টার। বেগতিক দেখেই শেষ পর্যন্ত আদালতে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয় সে। চন্দ্রনাথ রথ খুন ছাড়াও মনুর বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। তবে অভিযুক্তের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে এবং তারা সিবিআই তদন্তের ওপর ভরসা রাখছেন।
পেশাদার ব্লু-প্রিন্ট ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ৬ মে রাতে নিজাম প্যালেস থেকে ফেরার পথে মাত্র ৫০ সেকেন্ডের এক ঝটিকা অপারেশনে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট, দীর্ঘদিন ধরে রেইকি বা নজরদারি চালানোর পর অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্প শুটারদের ব্যবহারের পাশাপাশি এই ঘটনায় স্থানীয় দুষ্কৃতী নেটওয়ার্কের সক্রিয় যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মনুর সিবিআই হেফাজত এই হাইপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল mastermind বা মূল ষড়যন্ত্রকারীকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অতি-গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রাক্তন সহযোগীকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো, সেই রহস্যের জটও এবার খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
