শ্রীরামকৃষ্ণের ‘ষোড়শী পুজো’: ফলহারিণী অমাবস্যার গভীর রাতে কেন নিজের স্ত্রীকেই দেবীজ্ঞানে পুজো করেছিলেন ঠাকুর? – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/16/soroshi-puja-2026-05-16-06-32-59.jpeg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
হিন্দু ধর্মে শক্তি আরাধনার অন্যতম পবিত্র উৎসব হলো ফলহারিণী কালীপুজো। ভক্তের জীবনের সমস্ত অশুভ কর্মফল ও দুঃখ-কষ্ট হরণ করে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনাই এই তিথির মূল মাহাত্ম্য। তবে আধ্যাত্মিক ইতিহাসের পাতায় এই তিথিটি এক যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী। ১২৮০ বঙ্গাব্দের ১৩ জ্যৈষ্ঠ ফলহারিণী কালীপুজোর গভীর রাতে দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর সহধর্মিনী সারদা দেবীকে সাক্ষাৎ জগজ্জননী জ্ঞানে পুজো করেছিলেন, যা আজ ‘ষোড়শী পুজো’ নামে খ্যাত।
নারী শক্তির সর্বোচ্চ সম্মান ও আধ্যাত্মিক জাগরণ
তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যখন নারীদের অবস্থান ছিল অবহেলিত, তখন শ্রীরামকৃষ্ণ দেব মা ভবতারিণীর রূপ হিসেবে নারী শক্তিকে এক অনন্য আসনে অধিষ্ঠित করেন। সেই রাতে দক্ষিণেশ্বরে নিজের ঘরের মেঝেতে আল্পনা এঁকে, কাঠের আসন পেতে ষোড়শোপচারে সারদা দেবীকে ‘ষোড়শী’ রূপে আবাহন করা হয়। আধ্যাত্মিক পরিবেশে আবিষ্ট হয়ে মা সারদা আসনে উপবিষ্ট হলে, শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর দীর্ঘ সাধনার সমস্ত পুণ্যফল এবং জপের মালা সারদা দেবীর চরণে সমর্পণ করে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি সারদা দেবীর ভেতরের সুপ্ত জগজ্জননী রূপকে লোকচক্ষুর আড়ালে জাগ্রত করেছিলেন।
ঐতিহাসিক কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
রামকৃষ্ণ দেবের এই আরাধনার মূল কারণ ছিল বাহ্যিক লৌকিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জগতকে মাতৃভাবের মহিমা শিক্ষা দেওয়া এবং নারী জাতির অন্তর্নিহিত দিব্য শক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই ঘটনার প্রভাব সনাতন ধর্মের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী। এটি সমাজকে বার্তা দেয় যে, নারী কেবল ভোগের বস্তু নয়, বরং শ্রদ্ধার ও পুজোর যোগ্য। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে আজও প্রতি বছর ফলহারিণী অমাবস্যায় বেলুড় মঠসহ পৃথিবীর সমস্ত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে শ্রীরামকৃষ্ণের পাশে মা সারদার ছবি রেখে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ‘ষোড়শী পুজো’ উদযাপন করা হয়।
