সংসদের ভাষণে ইতিহাসের পাতা ওল্টালেন প্রিয়াঙ্কা!

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা নারী সংরক্ষণ বিল পেশ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কৃতিত্বের লড়াই। বিজেপি এই বিলকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তীব্র আক্রমণের সুরে জানিয়েছেন, নারী সংরক্ষণের দাবি কোনো নতুন বিষয় নয়। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার বিষয়টিকে নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রিয়াঙ্কার দাবি, এই বিলের ভিত্তিপ্রস্তর বহাল বছর আগেই নেহরু-গান্ধী পরিবারের হাত ধরে স্থাপিত হয়েছিল।
ইতিহাসের নিরিখে কৃতিত্বের দাবি
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯২৮ সালে মতিলাল নেহরুর রিপোর্ট থেকেই নারীদের সমানাধিকারের বীজ বপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজীব গান্ধী পঞ্চায়েত ও পৌরসভাগুলোতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং ২০১০ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে রাজ্যসভায় নারী সংরক্ষণ বিল পাস করানো হয়েছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে বলেন, রাহুল গান্ধীর পরামর্শ মেনেই ২০১৮ সালেই এই বিলটি কার্যকর করার দাবি উঠেছিল। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, বর্তমান সরকার ভোটের কথা ভেবেই এই বিল নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে, যার ফলে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন গৌণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনীতি ও সমীকরণ
নারীদের নিছক ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে বিবেচনা না করে প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মোদীর দাবি করা কৃতিত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রিয়াঙ্কার এই ‘ইতিহাস পুরাণ’ দিল্লির রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে যে তীব্র উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা মূলত আগামী নির্বাচনগুলোতে নারী ভোটারদের মন জয় করার এক কৌশলগত লড়াই। বিলটির সময়জ্ঞান এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে কংগ্রেসের এই প্রশ্ন তোলা আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
এক ঝলকে
- নারী সংরক্ষণ বিলের কৃতিত্ব নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।
- প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দাবি, মতিলাল নেহরু থেকে শুরু করে রাজীব গান্ধী ও ইউপিএ আমল—এই বিলের পিছনে কংগ্রেসের দীর্ঘ অবদান রয়েছে।
- বর্তমান সরকারের বিল পেশের সময়জ্ঞান ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রিয়াঙ্কা একে রাজনৈতিক কৌশল বলে অভিহিত করেছেন।
- নারীর ক্ষমতায়নের চেয়েও ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির ওপর ভিত্তি করেই এই বিলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে কংগ্রেসের অভিযোগ।
