সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড়, দলবিরোধী কাজের দায়ে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করল তৃণমূল! – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/01/tmc-expels-mlas-ritabrata-banerjee-sandeepan-saha-over-anti-party-activities-signature-forgery-row-2026-06-01-15-03-46.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চলমান অস্বস্তি এবার চরম রূপ নিল। দলবিরোধী কাজের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো বহিষ্কারের চিঠিতে জানানো হয়েছে, দলীয় নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে বারবার অনুপস্থিত থাকা এবং ক্রমাগত দলবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক দাবি
এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত আজ দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা নিজেদের দলের বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি একটি মামলাও দায়ের করেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক দাবির পরপরই আর সময় নষ্ট না করে এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস।
ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
গত বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষমতার অলিন্দে পালা বদলের পর তৃণমূলের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। কোথাও বোর্ড ভেঙে যাওয়া, আবার কোথাও কাউন্সিলরদের আচমকা পদত্যাগের ঘটনা দলের অন্দরের ফাটলকে স্পষ্ট করছিল। বিশেষ করে গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মাত্র ২০ জন বিধায়কের উপস্থিতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ এবং এরপর দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। একদিকে যেমন শাসক শিবিরের অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার এক কঠোর বার্তা দেওয়া হলো, অন্যদিকে দলত্যাগের এই ধারা এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে দলের শক্তি ও কৌশল নির্ধারণে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
