সকালে খালি পেটে গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ডেকে আনছে হার্ট ও কিডনির বড় বিপদ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
অনেকেরই দিন শুরু হয় গ্যাসের ওষুধ খেয়ে। সকালে একটি বড়ি খেলেই সারাদিন নিশ্চিন্তে খাওয়া-দাওয়া করা যাবে—এমন ধারণা থেকেই মূলত এই অভ্যাসের জন্ম। তবে চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত গ্যাসের ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সাময়িক আরাম মিললেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে শরীরে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
গ্যাসের ওষুধ কেন বিপজ্জনক হতে পারে
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ বিশেষ করে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর বা পিপিআই (PPI) বেশি খেলে হার্ট ও কিডনির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন এই ওষুধ সেবনে শরীরের পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা কমে যায়, যা থেকে কিডনির সমস্যা ও অপুষ্টিজনিত রোগের সৃষ্টি হয়। এমনকি হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
জনপ্রিয় কিছু ওষুধের নাম ও তার প্রভাব
সাধারণত ওমিপ্রাজোল, প্যান্টোপ্রাজোল বা ইসোমিপ্রাজোল জাতীয় ওষুধগুলো মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এই ওষুধগুলো পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে সাময়িকভাবে বুক জ্বালা বা অম্বল কমায়। কিন্তু পাকস্থলীর স্বাভাবিক অ্যাসিড খাবার হজমে সাহায্য করার পাশাপাশি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে। ফলে দীর্ঘ সময় অ্যাসিডের মাত্রা কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখলে হজমের সমস্যা ও সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ এই জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই ভুলবশত বছরের পর বছর এই ওষুধ খেয়ে যান। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, সমস্যা বেশি হলে কয়েক দিন টানা ওষুধ খেয়ে পরে তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ধীরে ধীরে ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমানোই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যদি অম্বলের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, বুক জ্বালা বা হজমের সমস্যা বারবার ফিরে আসে কিংবা অন্য কোনো পুরনো রোগ থাকে, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিদিন অভ্যাসবশত ওষুধ না খেয়ে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে প্রাকৃতিক উপায়েই অম্বলের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

