সঙ্গীর নাক ডাকা কি আপনার বারোটা বাজাচ্ছে? জানুন মারাত্মক বিপদ ও মেটানোর উপায় – এবেলা
September 17, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
September 17, 20261:15 pm
সঙ্গীর নাক ডাকাকে কেবল একরাতের বিরক্তি মনে করে এড়িয়ে যাওয়া বড় ভুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শুধু নাক ডাকা ব্যক্তির নয়, বরং পাশে শুয়ে থাকা মানুষটির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৪ জন নাক ডাকেন এবং এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর স্বাভাবিক ঘুমের ওপর। ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালির নরম টিস্যুগুলোর কম্পনের ফলেই মূলত এই বিশ্রী শব্দের সৃষ্টি হয়।
শরীরের যে যে ক্ষতি হচ্ছে
- স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ হ্রাস: সঙ্গীর নাক ডাকার শব্দে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। ফলে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় ‘গভীর ঘুম’ থেকে বঞ্চিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কাজের দক্ষতা, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির ওপর।
- মানসিক চাপ ও মেজাজ খিটখিটে হওয়া: খণ্ডিত ঘুমের ফলে শরীরে ক্লান্তি জমতে থাকে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই হ্যাংওভারের মতো ঝিমঝিম ভাব ও প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব হয়।
- সম্পর্কের দূরত্ব ও টানা পোড়েন: ঘুম না হওয়ার ক্লান্তি থেকে দম্পতিদের মধ্যে মেজাজ হারানোর প্রবণতা বাড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেক দম্পতি বাধ্য হয়ে আলাদা ঘরে ঘুমাতে শুরু করেন, যা তাঁদের পারস্পরিক মানসিকভাবে দূরে সরিয়ে দেয়।
মুক্তির উপায় ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- স্লিপ অ্যাপনিয়া শনাক্ত করা: এটি সাধারণ নাক ডাকা নাকি ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (ঘুমের মধ্যে সাময়িক শ্বাস বন্ধ হওয়া)-র মতো মারাত্মক রোগ, তা আগেই চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
- জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: অতিরিক্ত ওজন কমানো, চিত হয়ে না শুয়ে কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা এবং ধূমপান বা অ্যালকোহল বর্জন করা।
- মেডিকেল ডিভাইসের ব্যবহার: সমস্যার মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মাউথগার্ড কিংবা সিপ্যাপ (CPAP) মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই সমস্যাকে এতদিন চেপে না রেখে শুরুতেই সঠিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
