সঙ্গীর সঙ্গে এক থালায় খেলেই ব্লাড সুগার কমবে? গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 20262:08 pm
খাবারের তালিকায় কী থাকছে আর কতটা খাচ্ছেন—রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাধারণত এই বিষয়গুলোতেই সবচেয়ে বেশি নজর দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চমকপ্রদ এক তথ্য সামনে আনলেন বিজ্ঞানীরা। খাবারে কাটছাঁট না করেও শুধু খাওয়ার অভ্যাস আর সঙ্গের শক্তিতেই রক্তে ব্লাড সুগারের বাড়বাড়ন্ত কমানো সম্ভব!
কী বলছে নতুন গবেষণা? জেরুজালেমের বিখ্যাত ‘হিব্রু ইউনিভার্সিটি’ (Hebrew University) এবং ‘শেবা মেডিক্যাল সেন্টার’-এর (Sheba Medical Centre) গবেষকরা যৌথভাবে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। সেখানে ১০৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (৫৪ জোড়া দম্পতি)—যাঁরা অন্তত ৯ মাস ধরে সম্পর্কে রয়েছেন, তাঁদের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য ও স্পর্শ খাওয়ার পর শরীরে কী ধরনের শারীরিক পরিবর্তন আনে, তা খতিয়ে দেখাই ছিল এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।
একই খাবার, কিন্তু আশ্চর্যজনক ফলাফল! পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ১০২ গ্রাম ওজনের সাদা পাউরুটি (যাতে প্রায় ৫০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ছিল) খেতে দেওয়া হয়। সবাইকে এই একই খাবার দু’বার খেতে হয়—একবার একা বসে এবং অন্যবার নিজের সঙ্গীকে পাশে বসিয়ে।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, একা খাওয়ার তুলনায় যখন কেউ প্রিয় সঙ্গীকে পাশে নিয়ে খেয়েছেন, তখন খাওয়ার পর ব্লাড সুগার বাড়ার প্রবণতা প্রায় ১৫ শতাংশ কম ছিল! শুধু তাই নয়, প্রিয়জনের উপস্থিতিতে রক্তে বেড়ে যাওয়া শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। পাশাপাশি আরও একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পরিবেশে সঙ্গীর উপস্থিতি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাও ধরে রাখতে সাহায্য করে।
তবে রয়েছে কিছু জরুরি সতর্কতা! গবেষণার ফল অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও গবেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন:
- এই গবেষণাটি কোনোভাবেই দাবি করে না যে প্রিয়জনের সঙ্গে খেলেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সেরে যাবে।
- এটি মূলত খাবার খাওয়ার ঠিক পরপরই শরীরের তাৎক্ষণিক ও স্বল্পমেয়াদি প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- এই প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা চালাচ্ছেন।
তাই সুষম ও পরিমিত আহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বা পরামর্শ মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। তবে হ্যাঁ, প্রিয় মানুষকে পাশে নিয়ে একসঙ্গে হেসে-খেলে খাবার খাওয়ার মানসিক আনন্দ যে শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে—তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই!
