সত্যিকারের ভালোবাসার একটা উদাহরণ! মরণেও হলো না বিচ্ছেদ, স্বামীর চিতার পাশে প্রাণ হারালেন স্ত্রী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভালোবাসা যে কেবল রূপকথা বা সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়, তার এক বিরল ও আবেগঘন সাক্ষী থাকল বিহারের সমস্তিপুর জেলা। সারাজীবনের পথচলা শেষে মৃত্যুকেও হার মানাল এক বৃদ্ধ দম্পতির অটুট বন্ধন। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শোক সইতে না পেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন স্ত্রীও। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিয়োগান্তক ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে উজিয়ারপুর ব্লকের পারোরিয়া গ্রামের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯৫ বছর বয়সী কৃষক যুগেশ্বর রায় মঙ্গলবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন তার ৯০ বছর বয়সী স্ত্রী তেত্রী দেবী। স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসে যখন তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
স্বামীর শোক সইতে না পেরে প্রয়াণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুগেশ্বর রায়ের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে এবং তার মরদেহ যখন শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাজানো হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে তেত্রী দেবীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি চিৎকার করে স্বামীর লাশের ওপর লুটিয়ে পড়েন এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে যান। প্রিয়তম মানুষের বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে না পেরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সাথে দুই যাত্রা
একই ঘর থেকে যখন স্বামী ও স্ত্রীর দুটি কফিন বা শবদেহ বের করা হয়, তখন পুরো গ্রামের আকাশ-বাতাস কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। গ্রামবাসীদের মতে, যুগেশ্বর এবং তেত্রী দেবীর দাম্পত্য জীবন ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ।
স্থানীয়রা বলছেন, এই দম্পতি শুধু জীবনেই নয়, মরণেও একে অপরের সাথী হয়ে রইলেন। এই ঘটনাটি আধুনিক যুগেও সত্যিকারের ভালোবাসা এবং অটুট সম্পর্কের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

