সপ্তাহের শুরুতেই সোনা ও রুপোর দামে বড় লাফ, তবুও সর্বোচ্চ দরের চেয়ে অনেকটাই সস্তা দুই ধাতু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সপ্তাহের প্রথম ব্যবসায়িক দিনেই দেশের বাজারে আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি রেকর্ড করল সোনা এবং রুপোর দাম। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ফিউচার ট্রেডিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই দুই মূল্যবান ধাতুর গ্রাফ এক ধাক্কায় অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে এক লাফে ৫ হাজার টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি হলদে ধাতুর দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। তবে এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পরেও, সোনা ও রুপো উভয় ধাতুই এখনও পর্যন্ত তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে অনেকটাই কম মূল্যে বিকোচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির।
বাজার খোলার সঙ্গেই তীব্র বৃদ্ধি রুপোর দামে
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারের রেশ ধরে ভারতের কমোডিটি বাজারেও রুপোর দামে তীব্র উত্থান দেখা যায়। গত সপ্তাহের শেষ দিনে ৩ জুলাই মেয়াদোত্তীর্ণ হতে চলা রুপোর ফিউচার প্রতি কেজি ২,৭১,৮৪৬ টাকায় বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহের শুরুতে বাজার খুলতেই তা এক ধাক্কায় ৫,৩৯৯ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ২,৭৭,২৪৫ টাকায় পৌঁছে যায়। এই তীব্র গতির পরেও রুপো তার রেকর্ড স্তরের চেয়ে বেশ খানিকটা নিচে অবস্থান করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ৪,৫৭,৩২৮ টাকার সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান বাজারদর এখনও প্রতি কিলোগ্রামে ১,৮০,০৮৩ টাকা সস্তা।
উজ্জ্বল হলুদ ধাতু, কলকাতায় কত দাম
রুপোর পাশাপাশি ৫ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ হতে চলা সোনার ফিউচার প্রাইসও সোমবার সকাল থেকে বাড়তে শুরু করে। গত শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৫৮,৬৭৯ টাকায় থিতু হলেও, সপ্তাহের প্রথম দিন সকালে ৮২১ টাকা বেড়ে তা ১,৫৯,৫০০ টাকায় পৌঁছায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কলকাতার খুচরো বাজারেও। কলকাতায় বর্তমানে ২৪ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৫৯,৩৮০ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩২০ টাকা বেশি। অন্যদিকে গহনার সোনা অর্থাৎ ২২ ক্যারেট ১০ গ্রামের দাম ৩০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১,৪৬,১০০ টাকা। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনার দাম ২,০২,৯৮৪ টাকার অল-টাইম হাই রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ড দামের তুলনায় বর্তমান বাজারে সোনা এখনও প্রতি ১০ গ্রামে ৪৩,৪৮৪ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ফিউচার মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের বাড়তি চাহিদার কারণেই সপ্তাহের শুরুতে সোনা ও রুপোর দাম এভাবে লাফিয়ে বেড়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনা-রুপো মজুত করতে পছন্দ করেন, যা বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুই-ই বাড়িয়ে দেয়। তবে রেকর্ড দরের চেয়ে বাজার অনেকটাই নিচে থাকায় এই মুহূর্তে বিয়ে বা উৎসবের মরশুমের কেনাকাটায় খুব বড় মন্দা না এলেও, লাগাতার এই মূল্যবৃদ্ধি বজায় থাকলে আগামী দিনে খুচরো গহনার বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
