সবুজ-মেরুন সাম্রাজ্যে নক্ষত্রপতন, চিরঘুমে মোহনবাগান রত্ন টুটু বসু

সবুজ-মেরুন সাম্রাজ্যে নক্ষত্রপতন, চিরঘুমে মোহনবাগান রত্ন টুটু বসু

কলকাতার ফুটবল ময়দানে এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। চিকিৎসকদের সমস্ত লড়াই ব্যর্থ করে চিরবিদায় নিলেন আধুনিক মোহনবাগানের রূপকার ও বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশাসক টুটু বসু। গত সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গঙ্গার ওপারের শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব থেকে শুরু করে গোটা ময়দান।

আধুনিক মোহনবাগানের কারিগর

মোহনবাগান ক্লাব এবং টুটু বসু—এই দুই নাম গত তিন দশকে একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিল। ১৯৯১ সালে কিংবদন্তি ধীরেন দে-র পর সচিবের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সেই কঠিন সময়ে ক্লাবের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মতৎপরতা ময়দানে আজও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বচ্ছ ভোটদান পদ্ধতি প্রবর্তন এবং ফুটবলারদের পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকাই ছিল তাঁর বিশেষত্ব।

সংকটমোচন ও পেশাদারিত্বের উত্তরণ

মোহনবাগানকে কর্পোরেট জগতের সঙ্গে যুক্ত করা এবং আরপিএসজি গ্রুপের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল টুটু বসুর। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে আসীন থাকা এই মানুষটি ক্লাবের যেকোনো দুঃসময়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হতেন। বিদেশি ফুটবলার নির্বাচন থেকে শুরু করে ক্লাবের বড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা—সবকিছুতেই তাঁর দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন দেখা যেত। বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন এক বটবৃক্ষের মতো।

টুটু বসুর প্রয়াণ কেবল মোহনবাগান নয়, বাংলার ফুটবল ইতিহাসের এক অপূরণীয় ক্ষতি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল থেকে শুরু করে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্তারাও এই অভিজ্ঞ প্রশাসকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। ময়দান হারাল এমন এক অভিভাবককে, যিনি খেলার মাঠকে পেশাদারিত্ব ও আবেগের মিশেলে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে একটি যুগের অবসান ঘটল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *