সমাবর্তনে মমতার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন জিমস চেয়ারম্যান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বজবজে জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল (JIMS) এবং জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অফ নার্সিং সায়েন্সের (JINS) কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসে ধুমধাম করে সমাবর্তন উৎসব পালিত হলো। ২০২০-২১ ব্যাচের এমডি, ২০২২-২৩ ব্যাচের এমএস এবং ২০২১ ও ২০২২ ব্যাচের বি.এসসি নার্সিং কোর্সের সফল উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের হাতে এই অনুষ্ঠানে ডিগ্রি ও অভিজ্ঞানপত্র তুলে দেওয়া হয়। তবে এই আনন্দঘন আবহের মধ্যেই রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তা।
সরকারি বাধার অভিযোগে চাঞ্চল্য
সমাবর্তনের মূল মঞ্চ থেকে জগন্নাথ গুপ্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে. কে. গুপ্তা বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার তাঁদের বিভিন্ন কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্টের মতো জরুরি বিভাগ চালু করতে না দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। এতদিন চুপ করে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তিনি এই সত্য বলতে বাধ্য হয়েছেন এবং নতুন সরকারের কাছে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেহালা পূর্বের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর শিকদার রাজ্যের পূর্বতন স্বাস্থ্য প্রকল্পের সমালোচনা করে দাবি করেন, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। পাঁচজন রোগীর চিকিৎসার বিপরীতে পঞ্চাশজন রোগীর বিল তৈরি করার মতো অনিয়ম চলেছে। রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য দফতর নেবে। অন্যদিকে, জিমস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে, যা সম্পন্ন হলেই হাসপাতালে খুব দ্রুত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতের গুরুদায়িত্ব ও প্রভাব
এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আবাসন দফতরের প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাজি এবং বিধায়ক গণেশ চন্দ্র নস্কর ও পাপিয়া অধিকারী। প্রতিমন্ত্রী নবীন চিকিৎসকদের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। করোনাকালীন কঠিন সময় পার করে দীর্ঘ অধ্যাবসায়ের পর ডিগ্রি পাওয়া এই তরুণ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিষ্ঠা ও মানবিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের বার্তা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নতুন চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে যোগদান যেমন দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে মজবুত করবে, তেমনই চিকিৎসা বিভাগে সরকারি বাধার এই অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
