সমুদ্রে নামছে ট্রাম্পের নামাঙ্কিত পরমাণু দানব! অত্যাধুনিক অস্ত্রে কাঁপবে শত্রুদেশ – এবেলা

সমুদ্রে নামছে ট্রাম্পের নামাঙ্কিত পরমাণু দানব! অত্যাধুনিক অস্ত্রে কাঁপবে শত্রুদেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মার্কিন নৌবাহিনী তাদের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে নির্মিত হতে যাওয়া নতুন যুদ্ধজাহাজটি এখন পরমাণু শক্তি বা নিউক্লিয়ার প্রপালশনে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া নৌবাহিনীর ৩০ বছরের জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত রোডম্যাপে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও বিশাল আকৃতি

সাধারণ ডেস্ট্রয়ার বা ফ্রিগেটের তুলনায় এই রণতরীটি হবে বহুগুণ শক্তিশালী ও বিশাল। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, জাহাজটির ওজন হবে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টনের মধ্যে, যা বর্তমান সময়ের যেকোনো ডেস্ট্রয়ারের চেয়ে কয়েকগুণ বড়। নব্বইয়ের দশকের পর এই প্রথম মার্কিন নৌবাহিনী পরমাণু শক্তিচালিত কোনো সারফেস কমব্যাট্যান্ট বা পৃষ্ঠতলীয় যুদ্ধজাহাজ তৈরির পথে হাঁটছে। নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ব্যবহারের ফলে জাহাজটি জ্বালানি নেওয়ার বিরতি ছাড়াই দীর্ঘ পথ দ্রুতগতিতে পাড়ি দিতে পারবে।

অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের সমাবেশ

এই রণতরীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে এর বিধ্বংসী অস্ত্রভাণ্ডার। এতে প্রথাগত বারুদের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগান’ এবং লেজার ওয়েপন সিস্টেমের মতো পরীক্ষামূলক অস্ত্র মোতায়েন করা হতে পারে। এছাড়া ট্রাম্পের পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জাহাজে পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুজ মিসাইলও রাখা হবে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অস্ত্রগুলো পরিচালনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন, তা এই পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর থেকেই সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

ব্যয়ভার ও কৌশলগত প্রভাব

প্রকল্পটি যেমন শক্তিশালী, তেমনি ব্যয়বহুল। প্রাথমিক বাজেট নথি অনুযায়ী, প্রথম তিনটি জাহাজ নির্মাণে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রায় ৪৩.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যধিক হলেও এর কৌশলগত সুবিধা অপরিসীম। সাধারণ জাহাজগুলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহারের সময় গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়, কিন্তু পরমাণু শক্তিচালিত এই রণতরী সর্বোচ্চ গতি বজায় রেখেই লেজার বা রেলগান নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। এটি সমুদ্রসীমায় মার্কিন আধিপত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *