লেটেস্ট নিউজ

সম্মতি থাকলে তা ধর্ষণ নয়: কর্ণাটক হাইকোর্টের বড় রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বেঙ্গালুরু: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ সময় শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়েতে অস্বীকার করাকে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানালো কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, যদি প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে তাকে অপরাধ হিসেবে দেখা সমীচীন নয়।

মামলার প্রেক্ষাপট

বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী এক মহিলার সঙ্গে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে জনৈক এক আইনজীবীর পরিচয় হয়। মহিলার অভিযোগ ছিল, ২০২২ সাল থেকে ওই ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। সম্প্রতি অভিযুক্ত আইনজীবী অন্য এক মহিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতি নিলে নির্যাতিতা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিচার করে নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও, অভিযুক্ত আইনজীবী মামলাটি খারিজের দাবিতে হাইকোর্টের আবেদন জানান।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়

বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্নর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। রায় দেওয়ার সময় আদালত বেশ কিছু কঠোর ও বাস্তবসম্মত যুক্তি তুলে ধরে:

  • পারস্পরিক সম্মতি: সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নজির টেনে আদালত জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে দুই ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকেন, তবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাকে ‘ধর্ষণ’ বলা যায় না। এটি বড়জোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা বিশ্বাসভঙ্গের (Cheating) ঘটনা হতে পারে, কিন্তু যৌন নিপীড়ন নয়।
  • অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত অবস্থান: বিচারপতি উল্লেখ করেন যে, অভিযোগকারী মহিলা নিজেই বিবাহিত এবং তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে। এই অবস্থায় “বিয়ের মিথ্যে প্রলোভনে” তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন বা তাঁকে প্রতারণা করা হয়েছে, এমন দাবি আইনত ধোপে টেকে না। তিনি জানতেন এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং আইনি সীমাবদ্ধতা কী।
  • মামলা খারিজ: আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিটি ঘটনাকে ধর্ষণের মোড়ক দেওয়া অনুচিত। এর ফলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর এবং নিম্ন আদালতের সমস্ত বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দেয় কর্ণাটক হাইকোর্ট।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় আগামী দিনে সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *