‘সম্মান তো বাঁচল!’ মমতার সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রতের শিবিরে মদন – এবেলা

‘সম্মান তো বাঁচল!’ মমতার সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রতের শিবিরে মদন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা ও বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকার পর অবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর পাশে বসেই কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। দল ছেড়েই আসন্ন একুশে জুলাইয়ের জমায়েত এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

একুশে জুলাই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে সরাসরি উপহাস করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “বিড়লা তারামণ্ডলের বাইরে আড়াই হাজার মানুষের জমায়েত নিয়ে একুশে জুলাই করার অনুমতি পেয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। ওখানে তো এমনিতেই এত বাদাম আর মুড়িওয়ালা ঘুরে বেড়ায়! যাই হোক, সম্মানটা তো অন্তত বাঁচল।” পাশাপাশি তাঁর চ্যালেঞ্জ, আসল তৃণমূল ডাক দিলে এখনও ব্রিগেড ভরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

মূল নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগ করেই অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মদন। তাঁর দাবি, “ইডির থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)।” তাঁর মতে, শুধুমাত্র অভিষেকের জন্যই দলের আজ এই দুরবস্থা। সেনাপতি ঠিকমতো দল চালাতে না পারার কারণেই আজ গোটা দল ভয়ে কাঁপছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কেন এই দলবদল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এখনও গভীর সম্মান ও আবেগ রয়েছে বলে জানালেও মদন মিত্র স্পষ্ট করেন যে, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, “দল ভেঙে যাচ্ছে। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে গোটা দলের সর্বনাশ হচ্ছে। একটা মানুষের জন্য কি গোটা জাতকে বিসর্জন দেব?” তিনি জানান, অভিষেককে ছয় মাস বা এক বছরের জন্য সরে গিয়ে দলকে নতুন করে সাজানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। সেই কারণেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা আসল তৃণমূল কংগ্রেসেই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কামারহাটির এই বিধায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *