সল্টলেকে মিটছে দীর্ঘদিনের জলের হাহাকার! মার্চ থেকেই মিলবে পরিস্রুত জল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিধাননগর: বিধাননগর পুরনিগম এলাকার বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর। বছরের পর বছর ধরে চলা জলকষ্টের অবসান হতে চলেছে খুব শীঘ্রই। আগামী মার্চ মাস থেকেই সল্টলেক, দত্তাবাদ এবং কেষ্টপুর সংলগ্ন এলাকার প্রায় এক লক্ষ বাসিন্দা পেতে চলেছেন উন্নত মানের পরিস্রুত পানীয় জল। পুরনিগম সূত্রের খবর, এই মেগা প্রকল্পের প্রস্তুতি এখন একদম শেষ পর্যায়ে।
ভোলবদল হচ্ছে ওভারহেড ট্যাঙ্কের
অম্রুত প্রকল্পের অধীনে সল্টলেকের দীর্ঘদিনের পুরোনো ১৫টি ওভারহেড ট্যাঙ্কের আমূল সংস্কারের কাজ শুরু করেছিল বিধাননগর পুরনিগম। এর মধ্যে ৩, ৫ এবং ১০ নম্বর ট্যাঙ্কের সংস্কার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই তিনটি ট্যাঙ্ক পুরোদমে সচল করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সল্টলেকের বিসি, বিডি, সিসি, সিডি, ডিসি, ডিডি, এএফ, বিএফ এবং এই (আংশিক) ব্লকের বাসিন্দারা এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন। এছাড়াও বৈশাখী আবাসন, করুণাময়ী হাউসিং এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কোয়ার্টার্সের বাসিন্দাদের জলের সমস্যাও এর ফলে মিটে যাবে।
পুরনিগমের জল সরবরাহ বিভাগের মেয়র পারিষদ তুলসী সিনহা রায় জানিয়েছেন, সল্টলেক তৈরির পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে ট্যাঙ্কগুলির সংস্কার করা হলো। পুরোনো আমলের পাম্প সরিয়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক পাম্প। ধাপে ধাপে বাকি ট্যাঙ্কগুলির কাজও সম্পন্ন করা হবে।
রাস্তার কল নয়, এবার জল মিলবে সরাসরি বাড়িতে
দত্তাবাদ ও কেষ্টপুর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে আরও বড় চমক। ২২ থেকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড (কেষ্টপুর ও বাগুইআটি) এবং ৩৮-৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (দত্তাবাদ) ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কাজ প্রায় সম্পন্ন। নিউ টাউনের জল শোধনাগার থেকে এই জল সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে দত্তাবাদ এলাকার ১০ হাজারেরও বেশি পরিবারে এবার আর রাস্তার কলের ওপর নির্ভর করতে হবে না; সরাসরি বাড়ির ভেতরেই মিলবে পানীয় জলের কানেকশন।
আসছে অনলাইন পরিষেবা
পরিষেবাকে আরও আধুনিক করতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা বা জল সরবরাহ সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ জানানোর জন্য বাসিন্দাদের আর পুরসভায় দৌড়াতে হবে না। অনলাইনেই অভিযোগ নথিভুক্ত করা এবং তার সমাধান পাওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর হাত ধরেই এই নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে।
