সাইকেলই যখন প্রাণের সখা, ৭০০ কিমি পাড়ি দিয়ে জগন্নাথ দর্শনে সাঁইথিয়ার ‘স্বপ্নবাজ’ গোপাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সাঁইথিয়া: পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও মনের দিক থেকে তিনি একজন ভবঘুরে পথিক। হাতুড়ি-বাটালির ছন্দময় জীবনের বাইরে তাঁর আসল নেশা ভ্রমণ। আর সেই ভ্রমণের সঙ্গী তাঁর সাধের সাইকেল, যার নাম তিনি রেখেছেন ‘পারো’। পরিবারের একজন সদস্যের মতোই ‘পারো’কে সঙ্গে নিয়ে ফের নতুন অভিযানে নেমেছেন সাঁইথিয়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল মাহারা। গন্তব্য— জগন্নাথধাম পুরী।
আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা। তার আগেই পুরীতে পৌঁছে প্রভু জগন্নাথের দর্শনের আশায় গত বৃহস্পতিবার সাঁইথিয়া থেকে রওয়ানা দিয়েছেন গোপাল। সামনে প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের দুর্গম পথ। তবে এই দীর্ঘ রাস্তা তাঁর কাছে কোনো বাধা নয়, বরং এক নতুন অভিজ্ঞতার হাতছানি।
গোপালবাবুর কাছে ‘পারো’ শুধুই একটি সাইকেল নয়, বরং দীর্ঘ সফরের অকৃত্রিম বন্ধু। এর আগেও এই সাইকেলে চেপে তিনি বেনারস, অযোধ্যা, হরিদ্বার, ঋষিকেশ এমনকি কেদারনাথের মতো দুর্গম তীর্থস্থান জয় করেছেন। তাঁর ভ্রমণের প্রস্তুতিও খুব সাধারণ— সাইকেলের ক্যারিয়ারে একটি ছোট্ট তাঁবু। পথের ক্লান্তি শেষে নিরাপদ জায়গা পেলেই সেখানে রাত কাটান তিনি। পরদিন ভোরে আবার নতুন উদ্যমে প্যাডেলে চাপ দেওয়া— এভাবেই চলে তাঁর জীবন।
এই দীর্ঘ সফরের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর পরিবারের নিঃশর্ত সমর্থন। স্ত্রী, সন্তান ও অভিভাবকরা তাঁর এই ‘ভ্রমণ বিলাস’-কে কোনোদিন বাধা দেননি, বরং প্রতিবারই উৎসাহ যুগিয়েছেন। গোপালবাবুর কথায়, “ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য থাকলে কোনো পথই আসাম্ভব নয়।” তাঁর এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য রেকর্ড গড়া বা প্রচার পাওয়া নয়; পথের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা এবং প্রতিটি মুহূর্তকে প্রাণভরে উপভোগ করাই তাঁর লক্ষ্য।
আজকের যান্ত্রিক জীবনে যখন অনেকেই সময়ের অভাবে শখ বিসর্জন দেন, গোপাল মাহারা তখন প্রমাণ করছেন— স্বপ্ন পূরণের জন্য বিশাল অর্থের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন শুধু অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তি। সাঁইথিয়া থেকে পুরীর পথে ‘পারো’র চাকার প্রতিটি ঘূর্ণন যেন নতুন করে শেখায়, ভালোবাসা আর সংকল্প থাকলে গন্তব্য একদিন ঠিকই ধরা দেয়।
