সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচে বিরাট স্বস্তি, কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালেও এবার মিলবে ফ্রি বেড! – এবেলা

সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচে বিরাট স্বস্তি, কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালেও এবার মিলবে ফ্রি বেড! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড়সড় সংস্কারের আভাস মিলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এখন থেকে কলকাতার বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালেও সাধারণ রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের জন্য কলকাতার নির্দিষ্ট ১৭টি বেসরকারি হাসপাতালে মোট শয্যার ১০ শতাংশ ‘ফ্রি বেড’ হিসেবে সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিপুল খরচের আশঙ্কায় যারা বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ পেতেন না, তারা এখন সহজেই আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসার আওতাভুক্ত হতে পারবেন।

বিনামূল্যে চিকিৎসার তালিকা ও সরকারি নির্দেশিকার কারণ

মূলত যে সমস্ত বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান অতীতে সরকারি সহায়তায় বা বিশেষ সুবিধায় জমি পেয়েছিল, চুক্তি অনুযায়ী তাদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার এমন ১৭টি হাসপাতালে মোট শয্যার সংখ্যা ৬,৫৭৩টি, যার ১০ শতাংশ হিসেবে ৬৬০টি বেড সরকারিভাবে রেফার হওয়া রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এই তালিকায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে সর্বোচ্চ ১০৬টি, অ্যাপোলো হাসপাতালে ৭৫টি, পিয়ারলেস হাসপাতালে ৬৭টি, ডিসান হাসপাতালে ৫১টি এবং মেডিকা হাসপাতালে ৫০টি বেড সংরক্ষিত করা হয়েছে। একইভাবে ফর্টিস, রুবি, নারায়ণা এবং মণিপালের মতো নামী করপোরেট হাসপাতালেও ১০ শতাংশ শয্যা খালি রাখতে হবে। তবে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গেছে, ১৭টির মধ্যে দুটি হাসপাতাল এই নিয়ম মানতে কিছুটা আপত্তি প্রকাশ করলেও সামগ্রিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যে সম্ভাব্য প্রভাব ও জেলাস্তরে সম্প্রসারণের উদ্যোগ

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে। প্রথমত, এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর থেকে রোগীর অতিরিক্ত ও লাগামহীন চাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে। দ্বিতীয়ত, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির রোগীরা কোনো আর্থিক জটিলতা ছাড়াই জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসা নামী বেসরকারি পরিকাঠামো থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। কলকাতার বুকে এই মডেল সফল করার পাশাপাশি এর পরিধি জেলাস্তরেও বাড়াতে চলেছে সরকার। জেলাগুলোর বেসরকারি নার্সিং হোম ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং সেখানেও এই ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নীতি কার্যকর করতে আগামী সোমবারই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। জেলা স্তরে এই নিয়ম চালু হলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষও শহরের মতো উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার সুফল ঘরে বসেই পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *